গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারের গুমটির দোকানে গিয়ে ঝালমুড়ি (Jhalmuri Break) কিনে খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) এমন জনসংযোগে দেখা যায়নি। রবিবার দেখা গেল ঝাড়গ্রামে। একদিনের মধ্যে সেই ভিডিয়োর 109M ভিউজ় হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ১০ কোটির বেশি মানুষ তা দেখে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম— তিনটি প্ল্যাটফর্মেই হু হু করে বাড়ছে ভিউজ়, সঙ্গে শেয়ারও। শুধু তাই নয় গুগলে ‘ঝালমুড়ি’র সার্চ ২২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। গত ২২ বছরে যত বার ঝালমুড়ি শব্দের সার্চ হয়েছে, এ বার সেই সার্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে।
রবিবার ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচার সভা ছিল নরেন্দ্র মোদীর। সেখান থেকে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যাওয়ার সময়ে মাঝ রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে লঙ্কা-পেঁয়াজ সহযোগে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খান তিনি।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্ন সময়ে এমন সহজ, সরল জনসংযোগে দেখা গেলেও ভোটমুখী বাংলায় এসে নরেন্দ্র মোদী যা করলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে একেবারে হইহই ব্যাপার।
শুধু ঝালমুড়ি খাওয়াই নয়, দোকানির সঙ্গে খোশমেজাজে মোদীর কথোপকথন নিয়েও বেশ চর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায়। রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে গাড়িতে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময়ে ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড়ে বিক্রমকুমার সাউয়ের ঝালমুড়ির দোকানে ঢোকেন। দোকানে ঢুকতে ঢুকতেই মোদীকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই হামে আপনা ঝালমুড়ি খিলাও। কিতনে কা হোতা হ্যায় ঝালমুড়ি?’
এর পরে ঝালমুড়ি মাখার সময়ে দোকানি পেঁয়াজ দেবেন কি না জানতে চাইলে মোদীর জবাব ছিল বেশ সরস— ‘পেঁয়াজ খাতে হ্যায়। দিমাগ নেহি খাতে বস।’ যা শুনে হেসে ফেলেন বিক্রম। মুড়ি খাওয়ার আগেই ওয়েস্টকোটের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ির দাম মিটিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
যদিও এই ঝালমুড়ি-পর্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনীতির আকচাআকচি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবারই বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে দাবি করেন, ‘১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি খাচ্ছে। সেটাও নিজেদের তৈরি করা। নয়তো দোকানে ক্যামেরা ফিট করা ছিল কী ভাবে?’ ওই ঝালমুড়ি এসপিজি-কে দিয়ে তৈরি করা বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
তবে রাজনীতির জাল কেটে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিয়ো যে লাইক-কমেন্ট-শেয়ারের দুনিয়ায় দারুণ হিট, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে ১০ কোটির ভিউ।