রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই পাহাড়ে গোর্খাদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। গোর্খারা এত দিন ধরে যে সব দাবি করে এসেছেন, তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ হবে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে শেষবেলার প্রচারে এই প্রতিশ্রুতিই দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, বিজেপি ছাড়া গোর্খাদের সমস্যার সমাধান কেউ করতে পারবে না।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকেই গোর্খাদের সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন ফেরি করে আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু অভিযোগ, আজও সেই অর্থে কোনও সমস্যারই সমাধান হয়নি। গত লোকসভা ভোটেও এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন বিজেপির নেতারা। যদিও তাতে ভোটের ফলাফলে বদল হয়নি। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন বিজেপিরই প্রার্থী রাজু বিস্তা। এ বার বিধানসভা ভোটের প্রচারেও গোর্খাদের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন।
মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াংয়ের সুকনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা ছিল। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ৪ মে ভোটের ফলাফল বেরোবে। তাতে বিজেপির বড় জয় হতে চলেছে। তার পরেই দার্জিলিঙে আসব। গোর্খাদের সমস্যার সমাধান করব। বিজেপি সরকার গড়ার পরে ৬ মে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নেব, যাতে গোর্খাদের সকলের মুখে হাসি ফোটে।’
গত লোকসভা ভোটের পর পাহাড়ে সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংকে। এ নিয়ে গত বছর তুঙ্গে পৌঁছেছিল কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব। শাহের অভিযোগ, ‘গোর্খাদের সমস্যার সমাধানে আমরা তিন বার মিটিং ডেকেছিলাম। কিন্তু দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) একবারও প্রতিনিধি পাঠাননি। তাই আমরা একজন মধ্যস্থতাকারী বসিয়েছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘মধ্যস্থতাকারী রিপোর্ট তৈরি করবেন পাহাড়ের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে, যা গোর্খারা এত দিন ধরে চেয়ে এসেছেন।’
প্রসঙ্গত, কেন্দ্র পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের পরেই বেশ কয়েক বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এলাকার প্রশাসন, শান্তিরক্ষার বিষয় সরাসরি রাজ্য সরকারের আওতাভুক্ত। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আঘাত। তবে মমতার এই চিঠির পরেও, শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেনি। মধ্যস্থতাকারীর দপ্তর যে তার পরেও কাজ চালিয়ে গিয়েছে, তা শাহের মঙ্গলবারের মন্তব্য থেকেও স্পষ্ট।
শাহের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের লোকেরা অনেক গোর্খার নাম কেটেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের সকলের নাম আবার ভোটার তালিকায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন শাহ। পাশাপাাশি তিনি বলেন, ‘বহু গোর্খার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তৃণমূল সরকার। ৪ তারিখে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই সব মামলা প্রত্যাহার হবে।’