হলদিয়ার নির্বাচনী সভা থেকে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভা থেকেই মেদিনীপুর নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও মঙ্গলবার জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনী প্রচার সভা থেকেই নেত্রীর ঘোষণা, ভবিষ্যতে মেদিনীপুরের দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে।’ এখানেই শেষ নয়, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তুমুল তুলোধোনা করেন নেত্রী। নাম না করে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘হলদিয়া থেকে টাকা কোথায় যায় সব আমি জানি।’ ২৬-এর ভোটের কাউন্টিংয়েও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা প্রকাশ নেত্রীর।
এ দিন হলদিয়ার সুতাহাটা সুবর্ণ জয়ন্তী মাঠে নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোর নিশানায় নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবার। নাম না করে মমতা বলেন, ‘তোমাদের এত অহঙ্কার, এক ভাই সাংসদ। তুমি বিধায়ক। আর এক ভাইও বিধায়ক। পুরো পরিবার মিলে রয়েছে। এদিকে MLA ইলেকশনে আমাদের পরিবার থেকে আমি ছাড়া কেউ দাঁড়ায়নি।’ এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল সুপ্রিমোর মুখে উঠে আসে অভিষেকের কথা। তাঁর কথায়, ‘অভিষেককে রোজ গালাগালি দেয় (শুভেন্দু অধিকারী)। অভিষেকের সঙ্গে লড়াইয়ে পারো না আর আমার সঙ্গে লড়বে? আমি বলে গেলাম, আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে। আমি তো থাকবই। এই গদ্দারদের রাজনৈতিক ভাবে উৎখাত করার দায়িত্ব আমাদের।’
প্রসঙ্গত, এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বলতে শোনা গিয়েছে ভোটে জয়ের পরে এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে নেবেন। তবে এই প্রথম তৃণমূল সুপ্রিমো সরাসরি মেদিনীপুরের কেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন।
এ দিন হলদিয়ার সভার শুরু থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোর নিশানায় ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২১-এর ভোটের স্মৃতি মনে করিয়ে গণনার আগে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘আগের বারও নন্দীগ্রামে রাতের বেলায় লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছিল। কাউন্টিং লুট করেছিল।’ এ বারেই সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সাবধান করেন নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘এমনি জিততে পারবে না। নন্দীগ্রামের মানুষ তোমাদের আগের বার ভোট দেয়নি। এখনও কোর্টে মামলা বিচারাধীন আছে। এ বারেরও লোডশেডিং করে দেবে, ছাপ্পা ভোট করে দেবে।’
এই প্রসঙ্গে নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর ঘটনাও ফিরে আসে তৃণমূল সুপ্রিমোর ভাষণে। নাম না করে অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রামের ঘটনা সব জানত। বাপ-ব্যাটা কেউ কিন্তু ৭-১০ দিন বেরোয়নি। আমি একা রাস্তায় ছিলাম। আমাকে যখন কোলাঘাটে পেট্রল বোমা মারছিল, ওরা বেরোয়নি। সে সব কথা নিশ্চয়ই হলদিয়ার, নন্দীগ্রামের মানুষের মনে আছে। কেউ আসতে সাহস পায়নি। আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢুকেছিলাম।’
এখানেই শেষ নয়, নন্দীগ্রামের তোলাবাজির অভিযোগও আনেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছ। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক। তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেপ্তার হবে?’ ক্ষোভ উগরে নেত্রীর সংযোজন, ‘আমি এদের আজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। আর পারব না দিতে। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধে ভাতে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে।’
এই সভা থেকেই প্রশাসনের কাছেও নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার অনুরোধ রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একইসঙ্গে ভোটদান ও কাউন্টিংয়ের দিন জেলাবাসী সতর্ক থাকারও আর্জি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।