মনোজ কর্মকার, বাঁকুড়া
বাঁকুড়া জেলার একমাত্র শিল্প শহর হিসেবে পরিচিত বড়জোড়া। এক সময়ের বাম দুর্গ এখন জেরবার হাতির সমস্যায়। চলতি বছরের ভোটে বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে হাতির উপদ্রব অন্যতম বড় ইস্যু। বড়জোড়া ব্লক এবং গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রে হাতিদের তাণ্ডবে বছরভর তটস্থ থাকেন সাধারণ মানুষ।
বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের শাল জঙ্গলে ঘেরা ডাকাইসিনি, পাবয়া, বৃন্দাবনপুর, সাগরাকাটা ও শাউলিয়া এখন হাতিদের মুক্তাঞ্চল। হাতির আক্রমণে প্রায়ই প্রাণহানি এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক ক্ষতিপূরণ তাঁরা পাচ্ছেন না। ক্ষুব্ধ কৃষকরা জানিয়েছেন, হাতির উপদ্রবে ধান চাষ কোনও মতে হলেও সব্জি চাষ তাঁরা পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। ভোটের মুখে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ রাজনৈতিক দলগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় বামেরা এই কেন্দ্র হারায়। যদিও পাঁচ বছর পরে ২০১৬ সালে ফের বড়জোড়ায় ঘুরে দাঁড়ায় সিপিএম। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী সোহমকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম-র সুজিত চক্রবর্তী। যদিও ২০২১ সালে ফের তৃণমূল প্রার্থী অলোক মুখোপাধ্যায় এখানে জয়লাভ করেন। চলতি বছরে তৃণমূল অলোককে সরিয়ে গৌতম মিশ্রকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে সিপিএম ফের সুজিত চক্রবর্তীর উপরেই ভরসা রেখেছে। বিজেপি এখানে প্রার্থী করেছে আইনজীবী বিল্লেশ্বর সিনহাকে।
তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্রের দাবি, হাতির সমস্যা নিয়ে বন দপ্তর গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। পাশপাশি যানজট এড়াতে বাইপাস বা ফ্লাইওভার তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা তোপ দেগেছেন সিপিএম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, হাতির খাবারের নাম করে তৃণমূলের নেতারা পকেট ভরাচ্ছেন এবং শিল্প কারখানার অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিনহার দাবি, রাজ্য সরকার হাতি সমস্যার সমাধানে আন্তরিক নয় এবং কলকারখানায় বাইরে থেকে শ্রমিক এনে স্থানীয়দের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না—এমনটাই মত এলাকার বাসিন্দাদের। রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসন কিংবা বন দপ্তর, কাউকেই দীর্ঘস্থায়ী কোনও সমাধান দিতে দেখা যায়নি বলে তাঁদের দাবি। শিল্প শহরের ধুলো আর হাতির আতঙ্ক—এই দুয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বড়জোড়ার মানুষ এখন কার ওপর ভরসা করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।