প্রথম দফার ভোটের শেষ ল্যাপে প্রচার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাঁকুড়ার বড়জোড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি ফুটবল ময়দানে জনসভা করলেন অভিষেক। বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্রর (শ্যাম) সমর্থনে সভা করলেন তিনি। বড়জোড়ার সভা থেকে স্থানীয় ইস্যুতে মুখ খুললেন তিনি। তুলে ধরলেন তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ানও। কত ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূল প্রার্থীকে? সেই লক্ষ্যও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বড়জোড়া। ২০১৯ সাল থেকে বিষ্ণুপুরে বিজেপি সাংসদ। এই লোকসভার অধীনে একাধিক বিধানসভাও বিজেপির দখলে। অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কথা যাঁরা বলেন, তাঁরা তৃণমূল সরকারের মতো উন্নয়ন করতে পারেননি
তাঁর ভাষণে এসেছে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কথা। এই কেন্দ্রের বাসিন্দাদের গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য আগে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে অথবা দুর্গাপুরে যেতে হতো। এখন বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একাধিক রোগের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। রয়েছে কেমোথেরাপি, ডায়ালিসিস ও ব্লাড ব্যাঙ্কের সুবিধাও। ২০২১ সালের নির্বাচনে ফায়ার ব্রিগেড করা হবে বলে কথা দিয়েছিলেন অভিষেক। ওই নির্বাচনে বড়জোড়ায় জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী। তারপরে সেই আশ্বাস পূর্ণ করা হয়েছে বলে মনে করিয়েছেন অভিষেক। ওই এলাকায় আইটিআই কলেজ ও কর্মতীর্থ, কিসান মাণ্ডির কাজ হয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সাংসদ।
বড়জোড়া ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েত এবং গঙ্গাজলঘাঁটির ৬টি পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি বড়জোড়া বিধানসভা। সেখানে মোট ৮০ হাজার জন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, যার জন্য সরকার খরচ করে মাসে ১৩ কোটি টাকা। গত ৩ বছরে এই এলাকায় ৮০ কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তা তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে ১৬০ কোটি টাকার রাস্তা হবে। নলবাহিত পানীয় জল এবং আবাসন প্রকল্পের কাজ নিয়েও বড় আশ্বাস দিয়েছেন। কেন জেতাতে হবে তৃণমূলকে? এ দিন অভিষেক বললেন, ‘বিজেপি জিতলে বড়জোড়ার টাকা যাবে গুজরাটে। তৃণমূল জিতলে বাঁকুড়ার টাকা বাঁকুড়ায়, বড়জোড়ার টাকা বড়জোড়ায়, গঙ্গাজলঘাঁটির টাকা গঙ্গাজলঘাঁটিতে ব্যবহৃত হবে।’ তাঁর আশ্বাস এই এলাকা থেকে তৃণমূল জিতলে সেই বিধায়ক গঙ্গাজলঘাঁটি, বেলিয়াতোড়, বড়জোড়া ছুটে বেড়াবেন। বড়জোড়া থেকে ৩০ হাজার ভোটে জিতলে চৌমাথার মোড়ের যানজটের সমস্যা মেটানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক।
এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শ্যাম মিশ্র জেতালে বড়জোড়ার সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব আমার।’ সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মঞ্চে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে অভিষেক বলেন, ‘এই ভালোবাসার ঋণ সুদে আসলে আগামী দিনে শোধ করা হবে।’