দিল্লি আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া-সহ অন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিচারপতি ডঃ স্বর্ণকান্ত শর্মাকে সরে দাঁড়ানোর যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি। এই মামলায় নিজেই সওয়াল করেছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার বিচারপতি সাফ জানান, কেজরির যুক্তিতে কোনও প্রমাণ ছিল না। একটি বিশদ রায়ে বিচারপতি শর্মা কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ খণ্ডন করে বলেছেন, সেগুলি অনুমান এবং নিছক আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেজরিওয়াল তাঁর দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অভিযোগ ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়াকে হেয় করার অনুমতি দেওয়া যায় না। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করছি, কারণ আমার শপথ সংবিধানের প্রতি। আমার শপথ আমাকে শিখিয়েছে যে, চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না, প্রকৃত ন্যায়বিচার হল সেটাই, যা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না। আমি নির্ভয়ে ও বৈষম্যহীনভাবে কাজ করব।” ২৯ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি।
পাশাপাশি, দিল্লি হাই কোর্টে দাখিল করা একটি হলফনামায় সিবিআই-ও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনও বিচারপতির আইনি সেমিনারে যোগদানকে তাঁর ‘মতাদর্শগত যোগসূত্র’ হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না। এই যুক্তিতে সিবিআই ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিচারপতির অখিল ভারতীয় আইনজীবী পরিষদের চারটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিস্তারিত তথ্যও আদালতে পেশ করেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি তাদের পালটা হলফনামার ২ নম্বর অ্যানেক্সচারে জানিয়েছে, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আইনজীবী পরিষদের ১৬তম জাতীয় সম্মেলনে বিচারপতি শর্মা ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘শক্তি পর্ব’ অনুষ্ঠানে বিচারপতি পঙ্কজ মিখলের সঙ্গে তিনি বক্তা হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সংক্রান্ত একটি স্টাডি সার্কেল এবং ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট মহিলা আইনজীবীদের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই প্রতিটি অনুষ্ঠানই ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং আইনি জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র। আইনজীবী পরিষদকে আরএসএস-এর শাখা সংগঠন হিসাবে দাবি করে অভিযুক্তরা যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আদালতের মর্যাদাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার মতে, কোনও বিচারপতি যদি একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে পক্ষ ও বিপক্ষ-উভয় ধরনের নির্দেশ দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতের প্রশ্ন উঠতে পারে না।
এক্ষেত্রে লালুপ্রসাদ যাদবের একটি পুরনো মামলার উদাহরণ টেনে সিবিআই জানায়, সেখানেও তিন মাসের কম সময়ে ২৭টি শুনানি হয়েছিল। সিবিআই-এর সাফ কথা, আইনি সেমিনারে যাওয়া কোনও অপরাধ নয় এবং এটি বিচারপতির বিচার বিভাগীয় কাজে প্রভাব ফেলতে পারে না। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ব্যক্তিগতভাবে এই আবেদন নিয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই আদালতকে জানিয়েছিলেন, তবে সিবিআই-এর এই কড়া অবস্থান মামলাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে।