• রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় নয়া মোড়, এবার সরে দাঁড়ালেন খোদ বিচারপতি
    প্রতিদিন | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় নয়া মোড়। মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী। ওই বিচারপতির দাবি, মামলাকারী বিজেপি কর্মী আর আদালতের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। সোশাল মিডিয়ায় তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মামলাকারীর যেহেতু আদালতের উপর আস্থা নেই, তাই এই মামলা অন্য বিচারপতির শোনা উচিত।

    শুধু ভারতের নন। ব্রিটেনেরও নাগরিক লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী! এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পর রায়দানের কপি সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করার পর দেখা যায়, সেই এফআইআরের নির্দেশ খারিজ হয়েছে। বিচারপতি বিদ্যার্থী মেনে নেন, তাঁর দেওয়া রায়ে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশের আগে তাঁকে নোটিস পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু আইনজীবীরাও কেউ এই বিষয়টি তাঁকে মনে করিয়ে দেননি। ফলে শেষ মুহূর্তে আগের রায় বদলাতে হয়েছে। তারপরই সোশাল মিডিয়ায় মামলাকারী বিজেপি কর্মী ভিগ্নেশ শিশির। সেই পোস্টের জেরেই নিজেকে মামলা থেকে সরালেন বিচারপতি।

    রাহুলের বিরুদ্ধে লখনউয়ের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভিগ্নেশ শিশির নামের বিজেপি কর্মী। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী যে কেবলমাত্র ভারতের নাগরিক নন, এর যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর হাতে রয়েছে। ওই বিজেপি নেতা আদালতে দাবি করেন, রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে তথ্য জানতে তিনি ব্রিটেনের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিছু তথ্য তারা দিয়েছে। তবে সব তথ্য গোপনীয়তার খাতিরেই দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। কেন্দ্রেরও উচিত, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। কিন্তু বিশেষ আদালত এই মামলা খারিজ করে দেয়। জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই আদালতের নেই। রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দেওয়া হয় এই মামলা আসলে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।

    এরপরই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। শুক্রবার এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর বেঞ্চ রাহুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ভুল বুঝে নিজের আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় আদালত। যা বিরল ঘটনা। এবার বিচারপতি নিজেকেই সরিয়ে নিলেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)