• আলোচনায় দুই বাম! ফুটপাথেই রোগী দেখছেন ‘গরিবের ডাক্তার’ নিলয়, প্রচারে চাল-ডাল চাইছেন সৈকত
    প্রতিদিন | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • একজন গরিবের চিকিৎসক বলে পরিচিত এলাকায়। কাস্তে-হাতুড়ি-তারা চিহ্নে লড়ছেন বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। ভোট প্রচারে নেমেও চলছে ডাক্তারি। আবার বেহালা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে পটাশপুরের আরেক বাম প্রার্থী কাস্তে ধানের শীষ চিহ্নে লড়তে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল-ডাল সংগ্রহ করছেন। পটাশপুরের অলিগলি এখন এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী থাকছে। প্রথমজন বেহালা পূর্বের সিপিএম প্রার্থী ডা. নিলয় মজুমদার। অন্যজন পটাশপুরের সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরি।

    বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী ডা. নিলয় মজুমদার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ১৯৯৯ সালে। কখনও ছুটে গিয়েছেন উত্তরবঙ্গের বন্ধচা বাগান শ্রমিক মহল্লায় বা কুলপির ইটভাটা শ্রমিকদের চিকিৎসায়। কোভিডে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালানোর পাশাপাশি রেড ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী বিলি করেছেন। তবে তাঁর চিকিৎসা পরিষেবায় বড় কাজ ‘ওপেন ওয়ার চেম্বার’। খোলা আকাশের নিচে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে বেহালাবাসীর কাছে গরিবের ডাক্তার বলে পরিচিত তিনি। যে সব মানুষ সুলভ চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে যান, তাঁদের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যে মাঠে ঘাটে ফুটপাতে টেবিল পেতে বসে বিনামূল্যে রোগী দেখে চলেছেন নিলয় মজুমদার। সুদূর কুলপি, ভাঙড় থেকে বেহালার পাড়ায়। বেহালায় এখন ১৬-১৭টি জায়গায় খোলা আকাশের নিচে রোগী দেখেন। প্রচারে বেরিয়েও রোগী দেখার কাজে খামতি নেই তাঁর। নির্বাচনী কার্যালয়ে বসেও খসখস করে লিখছেন প্রেসক্রিপশন।

    ভোট প্রচারে নিলয়ের প্রতিশ্রুতি, গোটা বেহালা বিধানসভা এলাকায় ৩০টি বিনামূল্যের স্বাস্থ্য আর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করবেন। পাশাপাশি বেহালার সব বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য স্থানীয়স্তরে চাকরি বা আয়ের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করছেন তিনি। আরেক ভাবনা, যেসব ছেলেমেয়েদের ভিনরাজ্যে বা বিদেশে চাকরি করতে যেতে হয়েছে, তাদের মা-বাবাদের দেখভালের জন্য স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ডাক্তারবাবুকে নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সিপিএম নেতা কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যরা।

    অন্যদিকে, আধুনিক যুগের চাকচিক্যময় প্রচার নয়, কাঁধে ঝোলা আর হাতে একগুচ্ছ লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল-ডাল আর সামান্য নগদ সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছেন পটাশপুরের সিপিআই প্রার্থী তরুণ তুর্কি শিক্ষিত ও লড়াকু নেতা সৈকত গিরি। মানুষের দেওয়া মুষ্টিভিক্ষার উপর ভর করেই এবার বিধানসভা নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই তরুণ বাম প্রার্থী। বাড়ির উঠোনে গিয়ে সৈকত বলছেন, একটা পতাকা বা ফেস্টুনের জন্য সামান্য সাহায্য করুন। নগদ না পারলে চাল দিলেও চলবে। সৈকতের নির্বাচনী হলফনামা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর আয় আয়করের সীমার নিচে। বর্তমানে তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস হল পার্টির থেকে পাওয়া মাসিক ২,৮০০ টাকার ভাতা। বামেদের ‘শূন্য’ আসন সংখ্যার মতোই ‘শূন্য’ সম্পত্তি নিয়ে পটাশপুরের অলিগলিতে বাম প্রার্থী সৈকত নজর কেড়েছেন আমজনতার। এভাবে প্রচারে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় বলেই মনে করছে সিপিআই পার্টির নেতৃত্ব। সৈকতের কথায়, “এই লড়াই সাধারণ মানুষের জন্য। তাই মানুষেরই সাহায্য নিচ্ছি।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)