দ্বিতীয় দফার ১৪১ প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা, ৬৩টি কেন্দ্রে ‘রেড অ্যালার্ট’
প্রতিদিন | ২১ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি (৪৪ শতাংশ) কেন্দ্রকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে সমস্ত কেন্দ্রে তিন বা তার বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, সেগুলোতে ‘রেড অ্যালার্ট’ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে ভাঙড়। এখানে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। তার মধ্যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের তরফে সোমবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পত্তি, ফৌজদারি মামলা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানেই ৪৪ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় একাধিক কেন্দ্রে ১২ জনের বেশি প্রার্থী লড়াই করছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে ১৫, কলকাতা পোর্ট, বালি, বেহালা পশ্চিম, ডোমজুড়, দেগঙ্গা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, সোনারপুর দক্ষিণ ১৪, রাজারহাট-নিউটাউনে, বাদুড়িয়া, বীজপুর, সোনারপুর উত্তরে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে সব চেয়ে বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় দফার ১৪১ জনের মধ্যে ১০২ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে এই ফৌজদারি মামলা। শতাংশের হিসাবে ৭২ শতাংশ।
সেখানে তৃণমূলের ১৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে মামলা রয়েছে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে। ৩৫ শতাংশ। বামেদের বিরুদ্ধে মামলা ১০০ জনের মধ্যে ৫১ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা ছিল। দু’দফা মিলিয়ে বিজেপির ৭১ শতাংশ, তৃণমূলের ৩৮ শতাংশ, বামেদের ৪৭ এবং কংগ্রেসের ২৬ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটেও ১৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে ৯৪ জন। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, যেখানে তিন জন বা তার বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজেদের মধ্যে ফৌজদারি মামলা থাকার ঘোষণা করেছেন। সেগুলোকেই রেড অ্যালার্ট জোন হিসাবে ধরা হয়েছে। সংগঠনের তরফে উজ্জয়িনী হালিম বলেন, “আসলে আমরা চাই প্রার্থীদের হলফনামার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হোক। যাতে মানুষ ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিতে পারেন, কোন প্রার্থী কীরকম।”