• ভোটের আগেই বাংলা ছেড়ে দলমায় ফিরে গেল এই ‘বহিরাগত’রা! ১৫ বছর পর বড় সাফল্য প্রশাসনের
    প্রতিদিন | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছিল। শুধু কি তাই? আরও বহু বদলেরই তো সাক্ষী বঙ্গবাসী। তবে সব বদল এভাবে চোখে পড়েনি। সে বছরই দলমা থেকে দলে দলে দাঁতাল ঝাড়খণ্ডের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল বাংলায়। এ অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে বাংলার বনাঞ্চল দাপিয়ে বেড়ানোর পর তারা সগৃহে ফিরল কিনা, সেই খবর রাখার কথা মনে পড়েনি কারও। আর বছরের পর বছর ধরে তারা এখানেই রয়ে গিয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে লড়ছে শাসকদল তৃণমূল। বিজেপিকে তারা ‘বহিরাগত’ বলে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে। শাসক শিবিরের নেতা-প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ, এই বহিরাগতদের তাড়িয়ে ছাড়বেন। কতটা সফল হবেন, তা তো জানা যাবে নির্বাচনের ফলাফলে। তবে এর মধ্যে কিন্তু বহিরাগত তাড়াতে একদফা সাফল্য পেয়েছে বনদপ্তর। ১৫ বছর পর দলমার সেই দাঁতালদের পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঝাড়খণ্ডে।

    সেই ২০১১ সালে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে কাকড়াঝোড়-দলাপানি করিডর পেরিয়ে দলমার হাতির দল ঢুকে পড়েছিল বাংলার ঝাড়গ্রামে। সেখানেই এত বছর ধরে থেকে গিয়েছে। বংশবৃদ্ধিও হয়েছে। সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল দুশোয়। অনেকে ফিরে গেলেও আটত্রিশটি হাতি এখানেই রয়ে গিয়েছিল। এদের নিয়েই যত ঝামেলা তৈরি হয়। বন্যপ্রাণ-মানুষের সংঘাত আরও বেড়ে যায়। যখনতখন লোকালয়ে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালায়। নষ্ট হয় একরের পর একর জমির ফসল, ঘরবাড়ি।

    এনিয়ে আবার শাসকদল তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছিল বিজেপি। বলা হচ্ছিল, তৃণমূল সরকারের আমলে বনাধিকারিক এই সমস্যা সমাধানে ডাহা ফেল! এমনকী বনকর্মীরাও হাতিদের উপস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন। এক কর্মীর কথায়, “ভোটের সময় এই হাতির দল মাথাব্যথা। হুলা পার্টির সদস্যদের উপর বুথ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে। ৩৮ হাতির দাপটে অস্থির হওয়ার জোগাড়। সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।” রাজ্যের বিদায়ী বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে নিশানা করে ঝাড়গ্রামের বিজেপি সভাপতির মন্তব্য ছিল, “রাজ্য সরকারে জঙ্গলের এই সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ। হাতিরা জঙ্গলে থাকবে, মানুষ থাকবে নিজেদের ঘরে। এর মধ্যে সংঘাতের কী আছে? রাজ্য সরকারের পরিকল্পনাহীনতায় এত খারাপ পরিস্থিতি। আমরা ক্ষমতায় এলে এমন একটা পরিকল্পনা করব, যাতে এসব নিয়ে মানুষকে ভাবতে হবে না।”

    তবে বাংলার জঙ্গল বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ জানায়, মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত মেটাতে বহু নতুন নতুন পরিকল্পনা করেছে বনদপ্তর। তা প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। কখনও সফল, কখনও ব্যর্থ হয়েছে সেসব পরিকল্পনা। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মুখ দেখেছে পুরুলিয়া, সুন্দরবন বনবিভাগ। সুন্দরবনে রেঞ্জারদের ক্রমাগত জনসচেতনতা প্রচারে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রতি জনতার ভীতি প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়াতেও বন্যপ্রাণ হত্যা নেই। এভাবেই ক্রমাগত কাজ এগিয়েছে। ১৫ বছর পর অবশেষে চূড়ান্ত সাফল্য। গত ১৩ তারিখ ‘বহিরাগত’ তাড়ানোর সেই অপারেশন সফলভাবে শেষ হয়েছে। ৩৮টি হাতিই ফিরে গিয়েছে ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়ে। এনিয়ে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের বনাধিকারিক উমর ইমাম জানিয়েছেন, “কাকড়াঝোড়-দলাপানি জঙ্গল করিডরে এ এক বড় সাফল্য। ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার আমরা সবকটি হাতিকে দলমায় ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।” এভাবেই ছাব্বিশের ভোটের আগে ‘বহিরাগত’দের তাড়াতে সক্ষম হল বনদপ্তর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)