• ‘বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলেই চার বিয়ে...’, বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের
    এই সময় | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ক্ষমতায় এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করা হবে বাংলায়। নির্বাচনী ইস্তেহারে এ কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। তা একবার কার্যকর হলেই ‘চার-চারটে বিয়ে’ করা বন্ধ হয়ে যাবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কুলটির সভার থেকে এমনই বার্তা দিলেন অমিত শাহ।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে দিন, আমরা ইউসিসি কার্যকর করব। কেউ কেউ চার-চারটে বিয়ে করেন, আবার কেউ একটাই বিয়ে করেন। দিদিরা (সভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে) আপনারাই বলুন, কারও চারটে বিয়ে করা কি উচিত? বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে দিন, এখানে চারটে বিয়ে করা বন্ধ করে দেব। আপনারা জানেন তো, কারা চারটে বিয়ে করছে? বিজেপির সরকার এ সব বন্ধ করে দেবে।’

    বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে (নির্বাচনী ইস্তেহার) ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই তা নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘সংকল্পতে বলেছে, ইউসিসি করবে। আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। আপনার ইচ্ছেমতো ধর্মচর্চা, আপনার সংস্কৃতি মানার অধিকার থাকবে না। হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসীদের আলাদা মতে বিবাহ হয়। এরা বলছে, একটাই পথ হবে। বিজেপি মন্ত্র শিখিয়ে দেবে। বিজেপি যা বলে দেবে, সেটাই করতে হবে। এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর, মানুষের সবকিছু কেড়ে নেবে। আপনার শিক্ষা, আপনার ধর্ম, আপনার ঐতিহ্য কেড়ে নেবে।’

    প্রসঙ্গত, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন দেশের সকল সম্প্রদায়ের জন্য এক ও অভিন্ন আইনের কথা বলে। এটি চালু হলে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, লিভ-ইন সম্পর্ক ও দত্তক-সহ নানা বিষয়ে আইন সকলের জন্য একই হবে বা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই আইনে ছেলে ও মেয়েদের বিয়ের বয়স একই হবে। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হবে। দেশের মধ্যে প্রথম উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে।

    তবে এই আইনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা শিবিরেই প্রশ্ন আছে। রাজনৈতিক মহলের মত, ইউসিসি চালু হলে দেশের সব ধর্মের মানুষ একই রকম পারিবারিক, বিবাহ ও উত্তরাধিকার আইন মানতে বাধ্য থাকবেন। এই আইন যেমন মুসলিমদের জীবনে তো বটেই, জনজাতিদের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জনজাতিদের বিবাহ, উত্তরাধিকার সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক প্রথা রয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই হিন্দু রীতি থেকে আলাদা। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে সেই সাংস্কৃতিক প্রথার কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    তবে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ইউসিসি চালু হলে তা কোনও সংখ্যালঘু বা জনজাতি সমাজের ‘সংস্কৃতি’-কে কোনও ভাবেই প্রভাবিত করবে না। ওই আইনের আওতায় তিনটি বিষয়কে নিয়ে আসার কথা ভাবা হয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার। পদ্মশিবিরের যুক্তি, বিবাহের ক্ষেত্রে যেমন বহুবিবাহ বন্ধ করা, মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স বেঁধে দেওয়া, আইনি বিচ্ছেদের পরেই পরবর্তী বিবাহ করাকে নিশ্চিত করবে ওই আইন। তেমনি বিচ্ছেদের বিষয়টি যাতে একমাত্র আদালতের হস্তক্ষেপেই নিষ্পত্তি হয়, সেটাই নিশ্চিত করার কথা ভাবা হয়েছে। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের উভয়ের সমান দাবি প্রতিষ্ঠিত করাই ওই বিধির লক্ষ্য।

  • Link to this news (এই সময়)