রাজ্যে এখন ভোটের আবহ। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট গ্রহণ রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার (১৯ এপ্রিল) শেষ হয়েছে রাজ্যের ‘পয়লা বৈশাখ পাখি গণনা’ কর্মসূচি। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন দিনে বঙ্গে ৪০০-র বেশি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৪ সালে ৫৪৪ এবং ২০২৫ সালে ৫২৩ রেকর্ড করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটির চাপে অনেক পাখিপ্রেমী চলতি বছর পাখি গণনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এ ছাড়াও, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাতিবুনিয়া সৈকতে বিরল প্রজাতির একটি পাখি দেখার হুড়োহুড়িতেও গণনায় প্রভাব বেশ পড়েছে।
বার্ডওয়াচার্স সোসাইটির আয়োজিত এই কর্মসূচিতে চলতি বছর ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে কেউ অংশগ্রহণ করনি। অনেক শিক্ষক ও সরকারি কর্মী নির্বাচনের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত থাকায় ক্যামেরা বা দূরবিন নিয়ে বেরোতে পারেননি। মেদিনীপুর ও মালদার অনেক অভিজ্ঞ পাখিপ্রেমীও এই ইভেন্টে যোগ দিতে না পেরে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও দার্জিলিং জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট মিলেছে। সেখান থেকে ২১৮টি প্রজাতির পাখি দেখা পাওয়ার রিপোর্ট মিলেছে।
গণনায় চলতি বছরে বেশ কিছু বিরল প্রজাতির পাখির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। লাটপাঞ্চারে দেখা মিলেছে ‘গ্রিন কোচোয়া’র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাতিবুনিয়াতে মিলেছে বিলুপ্ত প্রায় ‘স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপার’ বা চামচ-ঠোঁট বাটান পাখির। ২০১৮ সালের পরে এই পাখি দ্বিতীয়বার বঙ্গে দেখা গিয়েছে। কারগিল সৈকতে ধরা দিয়েছে ‘ব্ল্যাক-টেইলড গাল’। চলতি বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ১৩৫টি প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে। তবে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অনেক নতুন পাখিপ্রেমীও যোগ দিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকে পাখি দেখলেও ই-বার্ড পোর্টালে তথ্য আপলোড না করায় চূড়ান্ত সংখ্যা কমেছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই বাংলার পাখিদের স্থিতি বুঝতে এই বার্ষিক গণনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন পাখিপ্রেমীরা। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসব আসলে প্রকৃতি সচেতনতার একটি অংশ। আগামী দিনে আরও বেশি মানুষকে এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। বর্তমানে সংগৃহীত তথ্যগুলি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।