এই সময়: বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন অমিত শাহ। ঠিক করে দিলেন তাদের পরবর্তী গন্তব্যও। এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা, ‘আপনারা ইভিএমে শুধু পদ্মফুল খুঁজে বার করুন। বাংলায় বিজেপি সরকার এসে অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে।’ তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ৪মে ভোটের ফলে বঙ্গে ক্ষমতায় আসছে বিজেপিই। এবং তারপরে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশেই ফিরে যেতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে ‘নতুন বাংলা’ গড়ার ডাকও দিয়েছেন শাহ।
বাংলায় ভোট প্রচার শুরুর মুখেই অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, এ বারের বিধানসভা ভোট অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই হবে। সেই মতো আগাগোড়া প্রচার–পর্বে বিজেপি নেতারা অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিঁধেছেন তৃণমূলকে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারিও বারবার বাংলায় এসে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। মঙ্গলবার ছিল প্রথম দফার ভোটে প্রচারের শেষ দিন। এ দিন পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের নির্বাচনী সভা থেকে শাহ অনুপ্রবেশকারীদের শুধু দেশ থেকে তাড়ানোর কথা বলেই থামলেন না, তাঁদের কোথায় পাঠানো হবে, সেটাও উল্লেখ করলেন। অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানোর বার্তা দিয়ে তাঁর হুঙ্কার, ‘৪ মে গণনা। ৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে। অনুপ্রবেশকারীদের বলছি, বাংলাদেশ যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিন।’ তাঁর সংযোজন, ‘আগামী ২৩ তারিখ (বৃহস্পতিবার) ইভিএমে পদ্মের বোতাম টিপে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সূচনা করবে জনগণই।’ শাহের অভিযোগ, ‘মমতা দিদি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন। যার জন্য গোটা দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ছে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে নতুন বাংলা গড়তে হবে।’
পশ্চিমবঙ্গ–বাংলাদেশ সীমান্তের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার বিএসএফকে জমি দিচ্ছে না বলে বিজেপির অভিযোগ। সেই অস্ত্রে এ দিনও শাণ দিয়েছেন শাহ। চণ্ডীপুরের জনসভা থেকে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জনতার উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে হবে, কি হবে না? দিদি পারবেন? অনুপ্রবেশকারীদের যাঁরা ঢুকিয়েছেন, তাঁরা পারবেন না। বাংলার সীমান্ত ওঁরা খুলে রেখেছেন। আমাদের জেতান। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা সীমানা বন্ধ করে দেবো।’
অনুপ্রবেশের জন্য তৃণমূল অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই বারবার নিশানা করেছে। তাদের বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে বিএসএফ। তারপরেও কী ভাবে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তার দায় তো কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করেছিল জোড়াফুল শিবির। এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব তো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। পহেলগামে জঙ্গিরা সীমান্ত টপকে ঢুকল কী ভাবে!’ তৃণমূলের এক মুখপাত্রের প্রশ্ন, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে কমিশন। ঘটনা হলো, এদের সিংহভাগই ভারতের নাগরিক। বিজেপির চাপে কমিশন তাঁদের নাম বাদ দিয়েছে। অমিত শাহ কি এঁদের সবাইকে বাংলাদেশ পাঠাতে চাইছেন?’
শুধু অনুপ্রবেশকারীদেরই নয়, অমিত শাহ এ দিন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদেরও। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির সভা থেকে শাহের তোপ, ‘মমতা দিদির গুন্ডারা প্রতিবার ভোটারদের বিরক্ত করে। আমি আজ ওদের সতর্ক করছি, ২৩ তারিখে (বৃহস্পতিবার) বাড়ির বাইরে যেন না বার হয়। মমতা দিদির সব গুন্ডারা কান খুলে শুনে রাখো, ২৩ তারিখে যদি কোনও ভোটারকে বিরক্ত করো, তা হলে ৫ তারিখে উল্টো ঝুলিয়ে সিধে করে দেবো।’