• ‘চোর’ পুলিশ, আমার কাছে টিকিট চেয়েছিল, মমতার নিশানায় জগদ্দলের বিজেপির প্রার্থী
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ছিলেন পুলিশ, এখন পদ্মপ্রার্থী। এ বারের বিধানসভা ভোটে সেই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমারকে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ভোট প্রচারে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপের মুখে পড়লেন তিনি।

    মঙ্গলবার জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থীর নাম এক বারের জন্যও নেননি মমতা। তবে আক্রমণের লক্ষ্য যে তিনিই ছিলেন, তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি কারওর। ‘চোর-পুলিশ’, ‘গদ্দারের লোক’ বলে আক্রমণ করে গত বিধানসভায় নন্দীগ্রামে তাঁর পরাজয়ের জন্যও পদ্মপ্রার্থীকে দায়ী করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দিল্লিতে এবং এখানে পদ্মপ্রার্থীর কত টাকা রয়েছে, তার হিসেবও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। জগদ্দলের পদ্মপ্রার্থীকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে টিকিট চেয়েছিল, আমি দিইনি। আমি চোর ডাকাতদের টিকিট দিই না।’

    উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থীকে এ দিন যে ভাবে এবং যে ভাষায় নিশানা করলেন মমতা, এ বারের ভোটে কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক মেজাজে তাঁকে দেখা যায়নি বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। মমতার সভার কিছুক্ষণ পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজেশ। তিনি পাল্টা বলেন, ‘যে মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ১০ বছর পুলিশে কোনও পোস্টিং দেননি, তাঁর কাছে আমি টিকিট চাইতে যাব? আর আমার কী সম্পত্তি আছে, তা আমি হলফনামায় দিয়েছি। তিনিই তো পুলিশমন্ত্রী ছিলেন, তিনি পদক্ষেপ করতেই পারতেন। আসলে ওই চোরের দলের কাছ থেকে আমার আর চাওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন আমাকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করেছিল, তিনি আমাকে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমি একটাই কথা বলব, চোরের মায়ের বড় গলা।’

    অন্যান্য সভায় সৌজন্য বিনিময়ের পরে কিছু সাধারণ কথা দিয়েই বক্তৃতা শুরু করছেন মমতা। কিন্তু এ দিনের সভায় তার ধারপাশ দিয়েও যাননি মুখ্যমন্ত্রী। বক্তৃতার শুরুতেই মমতা বলেন, ‘আমাদের এখানকার প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। বলছে তাঁকে নাকি নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার করা হবে। অতই সোজা!’ এর পরেই তিনি নাম না করে বলেন, ‘এখানে বিজেপি এক জন চোর-পুলিশকে প্রার্থী করেছে। আগে পুলিশ ছিল। এই লোকটা নন্দীগ্রামে আমার ভোট দখল করেছিল। তাও আমি হারিনি।’ আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে এর পরে মমতা বলেন, ‘সব থেকে বড় ডাকাতেরা বিজেপির প্রার্থী। পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে (রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ) দিয়েছিলাম। সেই বোর্ডকে পলিউটেড করে দিয়েছে।’

    রাজনীতির প্রসঙ্গে ফিরে মমতা বলেন, ‘ভেবেছ সোমনাথ শ্যামকে গ্রেপ্তার করে তুমি ভোটে জিতবে! শ্যাম জেলে গেলে ডাবল ভোটে জিতবে। আমার মা বোনেরা, দলের কর্মীরা কি বসে থাকবেন? কি, বদলা নেবেন তো?’ ফের পদ্মপ্রার্থীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘এখানে কতগুলো পুলিশ জুটিয়েছে। আমাদের পুলিশ নয়। বিজেপির প্রতি দায়বদ্ধ (কমিটেড)। নতুন করে এনেছে।’ মমতার সংযোজন, ‘সবাইকে সম্মান করি। আমি সবাইকে বলব, নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন। এখানে কমিশনারেট আমি তৈরি করে দিয়েছি। এখন যাঁরা চেয়ারে বসে বিজেপির দালালি করছেন, সেই চেয়ারটাও আমি তৈরি করে দিয়েছি।’ এর পরে কিছুটা স্বগতোক্তির সুরেই মমতা বলেন, ‘আমার অনেক ভুল আছে জানেন তো। এখানে যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তাঁকে আমি দুধ-কলা দিয়ে পুষেছি। আমাকে অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়) বলে, তুমি কঠোর হতে পারো না কেন? এত দুর্বল কেন? ঠিক কথা বলে।’

    এর পরেই তিনি বলেন, ‘আমার উচিত ছিল, সে দিনই জেলে পুরে দেওয়া, আমি পুরিনি। একটা সুযোগ দিয়েছিলাম। তার অপব্যবহার করেছে।’ সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বসে তুমি পুলিশ চেঞ্জ করছ। কে কোথায় যাবে ঠিক করছ। আর তোমার যে দিল্লিতে কত টাকা, এখানে কত টাকা, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কত টাকা এসেছে, সব হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় আমার কাছে রয়েছে। সব জেনে রেখেছি।’ আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি এখন বলছ যে, ভোটে জিতলে টিএমসি-কে গাছে ঝুলিয়ে পেটাবে! আগে নিজে বাঁচো।’ এর পরেই তাঁর প্রশ্ন, ‘ভোটের আগেই এত হুঙ্কার! তা হলে জিতলে তোমরা কী করবে? তবে সে আশা পূরণ হবে না। বিজেপিই তো থাকবে না। তুমি কোথায় যাবে তখন?’

  • Link to this news (এই সময়)