• জেলে জঙ্গি তৈরির ষড়যন্ত্র! ৭ দোষীকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজা
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • বেঙ্গালুরুর সংশোধনাগারে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র বিশেষ আদালত সাত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তাদের সাত বছরের জন্য সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে ওই আদালত। দোষীদের মধ্যে রয়েছে এই চক্রের মূল চক্রী এবং লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র সক্রিয় সদস্য টি নাসির। ২০০৮ সালের বেঙ্গালুরু সিরিয়াল বিস্ফোরণের সঙ্গেও সে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা।

    কারাগারের ভিতরে জঙ্গি মতাদর্শে বন্দিদের মগজ ধোলাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল সাত জনের বিরুদ্ধে। লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র সক্রিয় সদস্য নাসির ছাড়াও এই দোষে দোষী আরও ছয় জন। সৈয়দ সুহাইল খান, মহম্মদ উমর, জাহিদ তাবরেজ, সৈয়দ মুদাসির পাশা, মহম্মদ ফয়সাল রব্বানি এবং সলমান খানকেও সাজা শুনিয়েছে আদালত। সাত বছর কারাদণ্ড ছাড়াও সাত দোষীকেই ৪৮ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA), আর্মস অ্যাক্ট এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইন-সহ একাধিক ধারায় এই সাজা ঘোষণা করে।

    এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। বেঙ্গালুরুতে সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (CCB) অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে পিস্তল, একাধিক লাইভ গ্রেনেড, গোলাবারুদ, ওয়াকি-টকি এবং অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করে। তদন্তে উঠে আসে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের।

    পরে তদন্তভার নেয় NIA এবং তারা একটি বৃহত্তর জঙ্গি ষড়যন্ত্রের হদিশ পায়। অভিযোগ, বেঙ্গালুরুর পরাপ্পানা আগ্রাহারা সেন্ট্রাল জেলের ভিতর থেকেই টি নাসির দীর্ঘদিন ধরে বন্দি যুবকদের চিহ্নিত করে তাদের চরমপন্থা ও জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সে একাধিক বন্দিকে জিহাদি মতাদর্শে প্রভাবিত করে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার জন্য তৈরি করেছিল।

    তদন্তে আরও জানা যায়, জেলের ভেতরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। সেখানে কিছু জেলকর্মী এবং বাইরের সহযোগীরাও যুক্ত ছিল। মোবাইল ফোন চোরাচালান, আর্থিক লেনদেন, গোপন বার্তা আদান-প্রদান এবং অস্ত্র জোগানের মতো কাজে এই চক্র সক্রিয় ছিল। এমনকি নাসিরকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পালাতে সাহায্য করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

    এই মামলায় মোট ১১ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়। ওই ১১ জন ছাড়া পলাতক জুনাইদ আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হয়েছিল। জুনাইদ এখনও পলাতক এবং তাকে ধরতে NIA পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সলমান খানকে রোয়ান্ডা থেকে প্রত্যর্পণ করে ভারতে আনা হয়, যা আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তকারীদের মতে, এই মামলাটি শুধু একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র নয়, বরং কারাগারের ভিতর থেকে কী ভাবে চরমপন্থী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে, তার একটি উদাহরণ। আদালতের এই রায় সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)