• লোকনৃত্য থেকে ভোটের মঞ্চ, কুশমণ্ডিতে হ্যাট্রিকের লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল, খাতা খোলার মরিয়া চেষ্টায় বিজেপি
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • কুশমণ্ডি (Kushmandi Constituency) মানে গোমিরা নৃত্য। চৈত্র-বৈশাখে সবাই মিলে ঠাকুরানী দেবীর থানে পুজো দেন। তার পরে বংশবৃদ্ধি আর সমৃদ্ধির কামনায় মুখোশ পরে নাচের ছন্দে ঝড় তোলেন গ্রামবাসীরা। ফুটে ওঠে পৌরাণিক চরিত্র, লোকদেবতাদের কথা। এ বার বৈশাখের চাঁদিফাটা গরমে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)। কী ভাবছে কুশমণ্ডি?

    সেটা ১৯৭৭ সাল। ভরা বাম জমানা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে কুশমণ্ডি কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate)। সিপিএম এখানে দীর্ঘদিন দাঁত ফোটাতে পারেনি। আবার তৃণমূলের (TMC) জমানাতেও প্রায় দশ বছর এই কেন্দ্র আরএসপি-র দখলে ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেশকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিকে চেনা বড় দায়। কারণ একটাই। স্রোতের বিপরীতে হাঁটাই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভ্যাস।

    ভোটের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলালে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কুশমণ্ডিতে ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত টানা ছয় বার জিতেছে কংগ্রেস। তার পরের নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৮৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এখানে রাজত্ব করেছে আরএসপি। মানে ২০১১-এর পরিবর্তনের ভোটেও এখানকার মানুষ বদলাননি। তার পর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি নিজেদের দখলে আনে তৃণমূল। এবারের নির্বাচনে ঘাসফুলের প্রার্থী রেখা রায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন হ্যাট্রিকের দোরগোড়ায়।

    কুশমণ্ডির স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মূলত তিনটি। গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নতি, হিমঘর নির্মাণ এবং ঐতিহ্যবাহী মুখোশ শিল্পের প্রসার। গত দশ বছরের উন্নয়নকেই হাতিয়ার করছেন তৃণমূলের রেখা রায়। তাঁর সাফ কথা, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন যজ্ঞে এখানকার সাধারণ মানুষ সামিল হয়েছেন। এ বারও আমরাই জিতব।’ ভোটারদেরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছেন তিনি।

    ছাব্বিশের নির্বাচনে খাতায়-কলমে তৃণমূলই এগিয়ে। এই নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তৃণমূলের ঘাড়ের উপরে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। গত কয়েক বছরে কুশমণ্ডিতে জমি শক্ত করেছে তারা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে প্রচারে ঝড় তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। তিনি বলছেন, ‘বিজেপি জিতলেই গ্রামীণ হাসপাতালের ভোল বদলে যাবে। আমরা হিমঘরও তৈরি করব।’

    অন্য দিকে, পুরোনো ঐতিহ্য ফেরানোর লড়াইয়ে নেমেছেন আরএসপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় রায়। প্রয়াত বাম বিধায়ক নর্মদা রায়ের ছেলে তিনি। কুশমণ্ডিকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তাঁকেও চেনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জ্যোতির্ময়ের অভিযোগ, ‘২০১১-এর পরে এখানে কোনও উন্নয়নই হয়নি। কাজের গতিও থমকে গিয়েছে।’ রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা হলেও তৃণমূল এখানে এগিয়ে থেকেই লড়াই শুরু করবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শেষ হাসি কে হাসবে সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)