মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের ‘এই দিদি’ বলে সম্বোধন করার তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের সভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে বলছে এ দিদি। শুনেছেন? নারীদের প্রতি এই সম্মান? রাজ্যের একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী তাঁর থেকে বয়সে কম করে দশ বছরের বড়। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন না, ও দিদি, ও দিদি। কী হয়েছিল? ৭৭-এ গাড়ি আটকে গিয়েছিল, এ বার ৫০ পার হবে না অমিত শাহ।’
এ বারের নির্বাচনে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক জনসভায় বলেছেন, ‘ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সিধে করা হবে।’ এ দিনের মঞ্চ থেকে শাহের সেই বক্তব্যের সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘কে কাকে উল্টো করে টাঙায়, বাংলার মানুষ দেখিয়ে দেবে ৪ তারিখ। আমি বলছি, আপনি ৪ তারিখ, কলকাতায় থাকুন, দেখা হবে। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৩১-০ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে।’
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই জেলার ভাঙড় আসন বাদ দিয়ে বাকি সব আসনেই জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। সেই প্রসঙ্গ তুলে এ দিন অভিষেক বলেন, ‘২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে এই জেলার মানুষ যে ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সমর্থন না করলে সিপিএমের পতন হতো না। সিপিএমের সন্ত্রাস বন্ধ হতো না। প্রত্যেক বারের ভোটেই দু’হাত তুলে তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন।’ গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে জয়নগর কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী, এ বার সেই ব্যবধান ৬০ হাজার করার টার্গেট দেন তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
উল্লেখ্য, এ দিন জয়নগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিশ্বনাথ দাস ও মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী জয়দেব হালদারের সমর্থনে সভা করেন অভিষেক। জয়নগর-মজিলপুর এলাকায় মোয়ার হাব তৈরি, জয়নগর পুরসভার নিমপীঠে নতুন দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরবাজার কেন্দ্রে মথুরাপুর গ্রামীণ হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, লক্ষীকান্তপুরে আইটিআই কলেজ হয়েছে, মাধবপুর কলেজে নতুন বিল্ডিং তৈরি-সহ একাধিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থন করার বার্তা দেন অভিষেক।