ভারত মহাসাগরে ড্রাগনের ‘রক্তচক্ষু’! জার্মানির সঙ্গে ৯০ হাজার কোটির সাবমেরিন চুক্তির পথে দিল্লি
প্রতিদিন | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ভারত মহাসাগরে চিনের অতিসক্রিয়তা রোধ করতে এবার জার্মানির সঙ্গে ৯০ হাজার কোটি টাকার সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত। ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই জার্মানি পৌঁছে গিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই চুক্তির আওতায়, জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন তৈরি করতে চলেছে ভারত। প্রকল্পের নাম ‘প্রজেক্ট ৭৫ আই’।
জানা যাচ্ছে, ৯০-এর দশকের শেষ দিকে এই প্রকল্প শুরু হলেও নানা কারণে দফায় দফায় পিছিয়ে যায় ভারত-জার্মানির এই সামরিক যুক্তি। প্রায় ২ দশক ধরে ধমকে থাকার পর অবশেষে চুক্তির ‘পথের কাঁটা’ পুরোপুরি সাফ হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এর মাধ্যমে জার্মানির টাইপ ২১৪ ডিজাইনের অত্যাধুনিক ৬টি সাবমেরিন তৈরি করা হবে। সাবমেরিনগুলি পুরোপুরি তৈরি করা হবে ভারতে। যার প্রযুক্তি ও নকশা দেবে জার্মানি। সাবমেরিন ৬০ শতাংশই নির্মিত হবে স্বদেশী উপকরণে। যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়ার’ জন্য বড় সাফল্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে সবকটি সাবমেরিন হাতে পাবে নৌসেনা।
কেন চুক্তিটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সমুদ্রে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রকট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের নৌসেনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল সমুদ্রপথে ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে পারাপার করাতে তারা বিশেষ নজরদারি অভিযান চালাচ্ছে। সুতরাং এখন সমুদ্রে শক্তিশালী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
এদিকে বর্তমানে দেশের অনেক সাবমেরিনই পুরনো হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন- পাকিস্তানকে মোকাবিলা করতে ভারতকে শক্তিশালী সাবমেরিন বহর গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত সাবমেরিন ভারতের জন্য বিশেষ উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। সূত্রের খবর, এই চুক্তির আওতায় এধরনের সাবমেরিনও তৈরি হবে। এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত সাবমেরিন দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে থাকতে পারে এবং শত্রুর নজর এড়িয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই চুক্তি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে চিনা আগ্রাসন মাত্রাছাড়া হয়েছে। নৌশক্তিও আগের চেয়ে আরও বাড়িয়েছে ‘ড্রাগন’। এই অবস্থায় ভারতও জলের নীচে আরও শক্তিশালী নজরদারি ও আঘাত করার ক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে। জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের তৈরি এই ৬ অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ ভারত মহাসাগরে চিনের দম্ভ ভাঙতে কার্যকরি ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।