রাজ্যে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। বুধবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। গত দশ দিনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংস্থাটি দাবি করেছে, ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক— উভয় ক্ষেত্রেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগান বজায় রাখা হয়েছে। উৎসবের মরশুম বা বিশেষ কোনও কারণে সিলিন্ডারের ঘাটতি হওয়ার যে আশঙ্কা মাঝেমধ্যে তৈরি হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনও ভিত্তি নেই।
গত ১২ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিপিসিএলের সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি খতিয়ান দেওয়া হয়েছে। এই দশ দিনে সংস্থাটি সারা দেশে ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫৬৪টি ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহ করেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিলি করা হয়েছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮৬৭টি। এ ছাড়াও পাইকারি বা ‘বাল্ক’ সরবরাহের পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যে হারে সিলিন্ডারের বুকিং হচ্ছে এবং সরবরাহ চলছে, তাতে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিপিসিএলের পরিকাঠামো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। রিফাইনারি থেকে শুরু করে বটলিং প্ল্যান্ট এবং ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্ক— সর্বত্র কাজের গতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস বা পিএনজি সংযোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলিন্ডারের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজারেরও বেশি গ্রাহক এই ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে শহরাঞ্চলে সিলিন্ডারের চাহিদাকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের জীবনকে ‘ঊর্জায়িত’ করা। মুম্বই, কোচি এবং বিনায় অবস্থিত বিপিসিএলের শোধনাগারগুলির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫,৩০০টিরও বেশি ফুয়েল স্টেশন এবং ৬,২৫০টির বেশি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেও এগোচ্ছে এই মহারত্ন সংস্থাটি। সব মিলিয়ে, এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়াম। নিয়মিত বুকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা আগের মতোই দ্রুত পরিষেবা পাবেন।