• খচ্চরের পিঠে বাঁধা ইভিএম! ১৯১ ভোটারের জন্য দার্জিলিঙের দুর্গম বুথে পাড়ি ভোট কর্মীদের
    প্রতিদিন | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • যুগটা কি ডিজিটাল! পাহাড়ি পাকদণ্ডী বেয়ে এগিয়ে যেতে প্রশ্নটা বারবার উঁকি দিয়েছে ভোট (West Bengal Assembly Election) কর্মীদের মনে। কেন দেবে না? রাম্মা থেকে ছয় কিলোমিটার পথ খচ্চরের পিঠে ইভিএম মেশিন তুলে বুধবার সকাল ১১টায় রাজ্যের শেষ দুর্গম গ্রাম সমন্দেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে পৌঁছতে হয়েছে যে তাদের! মঙ্গলবার দার্জিলিঙ শহর থেকে রওনা হয়েছিলেন ওই ভোট কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সমন্দেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোট নেবেন।

    দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে বিজনবাড়ি ব্লকের চার নম্বর পোলিং স্টেশন সমন্দেন প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে পৌঁছতে অন্তত দু’দিন লেগে যায়। ভোট কেন্দ্রটি হল সামদেন ফরেস্ট প্রাইমারি স্কুল। এখানে ভোটার রয়েছে মাত্র ১৯১ জন। ওই কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকালে রওনা হন চার ভোটকর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। ভোট কর্মীরা প্রথমে গাড়িতে প্রায় ষোলো ঘণ্টায় পৌঁছে যান তিন নম্বর পোলিং স্টেশন রামমান প্রাইমারি স্কুলে৷ সেটি দার্জিলিং বিধানসভার একটি অস্থায়ী স্ট্রং রুম৷ সেখানে ভোট কর্মী এবং জওয়ানরা রাতে ছিলেন৷

    আজ, বুধবার সকালে খচ্চরের পিঠে মালপত্র তুলে নিজেরা হেটে ফের যাত্রা শুরু করেন সামদেন ফরেস্ট প্রাইমারি স্কুলের উদ্দেশে। দার্জিলিংয়ের মহকুমাশাসক বনমালী রায় জানান, গতবার পি মাইনাস টু-তে বুথ তিনটে ছিল৷ এখন মাত্র একটি। যেখানে পৌঁছাতে দু’দিন আগে রওনা দিতে হয়৷ ভোট কর্মীদের হেঁটে পাকদণ্ডী পথ পেরিয়ে বুথে পৌঁছতে হয়।

    বলে রাখা প্রয়োজন, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোট গ্রহণ করে রাতে ফেরার সময় এই এলাকায় ভয়ংকর ঝঞ্ঝার মুখে পড়েন ভোট কর্মীরা। এমনকী একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। গুরুতর জখম হন একজন। এবার তাই নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সারা দেশে এর কোনও নজির নেই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)