ভোট আসলেই তাঁর মুখে শোনা যেত ‘চড়াম চড়াম’ কিংবা ‘গুড়-বাতাসা’র দাওয়াই! তাঁর বিরুদ্ধে থাকত বিরোধীদের ভুরি ভুরি অভিযোগ। ভোটের দিন রীতিমতো কমিশনের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠতেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু মাঝে সময় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গরু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন জেলযাত্রার পর নিজের গড়ে ফিরলেও নেই সেই দাপট! আর তাই এবার কমিশনের নজরবন্দি নন বীরভূমের কেষ্ট। তবে কমিশনের কড়া নজরে রয়েছেন এই জেলার ৫৭ জন তৃণমূল নেতা-কর্মী। তাহলে ভোটের দিন কী করবেন অনুব্রত (Anubrata Mondal)?
মাঝে মাত্র আর কয়েকঘণ্টা। বৃহস্পতিবার বঙ্গভোটের (WB Assembly Election 2026) প্রথম দফা। রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট হবে। তালিকায় রয়েছে বীরভূমের ১১টি আসনে। যা একেবারেই অনুব্রত গড় হিসাবেই পরিচিত। জানা যাচ্ছে, ভোটের দিন প্রথমেই তিনি নিচুপট্টির বাড়িতে পুজো শেষ করে ভাগবত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটদানে অংশ নেবেন। পরে বোলপুরে তৃণমূলের জেলা দলীয় কার্যালয় থেকেই এগারোটি বিধানসভার ভোটের খোঁজ খবর নেবেন। এবং বিভিন্ন বিধানসভার ভোট পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। কোথায় কত শতাংশ ভোট পড়ছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি কী। সে বিষয়ে নেতৃত্বও দেবেন তিনি। তবে দলীয় সূত্রে খবর, কোর কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকেই ভোট পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন। ফলে গোটা জেলাজুড়েই একটি সুসংগঠিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে শাসকদল।
অন্যদিকে, অনুব্রত মণ্ডল সরাসরি নজরবন্দি না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরে রয়েছেন জেলার মোট ৫৭ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মী। তাঁদের গতিবিধির উপর বিশেষ নজরদারির নির্দেশ ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্বাচন কমিশন দিয়েছে বলে খবর। এই তালিকায় রয়েছেন কোর কমিটির সদস্য বিকাশ রায়চৌধুরী ও রবি মুর্মু। এছাড়াও সিউড়ির প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, লাভপুরের নেতা আব্দুল মান্নান হোসেন, সাঁইথিয়ার প্রার্থী নীলাবতী সাহার স্বামী দেবাশিস সাহা, তৃণমূল নেতা পিনাকী দত্ত, নুরুল ইসলাম, বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুর প্রতিনিধি সঙ্গীতা দাসের স্বামী বাবু দাস এবং নানুরের ফিলিপ শেখ-সহ একাধিক নেতার নাম রয়েছে ওই তালিকায়।নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোট চলাকালীন কোনও ধরনের অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারির নির্দেশও কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে অনুব্রত মণ্ডলকে প্রায়শই নজরবন্দি করে রাখত নির্বাচন কমিশন। অনুব্রত মণ্ডল জানান, “বোলপুরে দলীয় কার্যালয় থেকেই জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় ভোটের খোঁজখবর নেব। সকালে মেয়ে সুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাব।”