লড়াই ত্রিমুখী, ৫ কোটি ভোটার আজ নির্ধারণ করবেন তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ, রেকর্ডের লক্ষ্যে স্ট্যালিন
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
চেন্নাই: ‘তেমন কোনো অভিযোগ তো নেই। একাধিক জনমুখী প্রকল্প রয়েছে। এবারের ভোটে স্ট্যালিনের ডিএমকে-এর পাল্লাই ভারী মনে হচ্ছে। হ্যাঁ, তবে বিজয়ের দলও ভালোই লড়াই দেবে।’ আর এডিএমকে? শুনে মুচকি হাসলেন বছর ৫৩-এর মুরুগান পিল্লাই। ভোটমুখী তামিলনাড়ুতেও এসআইআরের হয়রানি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। দক্ষিণের রাজ্যে নাম বাদ গিয়েছে ৯৭ লক্ষের বেশি। যোগ হয়েছে সাড়ে ১৪ লক্ষের বেশি নতুন ভোটার। সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ ৭ হাজার ৩৮০ জন ভোটার আজ গণতন্ত্রের মহাযজ্ঞে শামিল হবেন। মুরুগান তাঁদেরই একজন। সাধারণ ভোটার। তাঁরাই নির্ধারণ করবেন, কার হাতে থাকবে দ্রাবিড়ভূমের চালিকা শক্তি! যদি স্ট্যালিন জেতেন, তবে তিনি রেকর্ড গড়বেন। কারণ পরপর দু’বার ডিএমকের জেতার রেকর্ড তামিলনাড়ুতে নেই।
এই ত্রিমুখী লড়াই-ই নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছরের তামিলভূমের ৫ কোটির বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ। বঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনের সঙ্গে আজ, বৃহস্পতিবার ভোট তামিলনাড়ুতে। ২৩৪ কেন্দ্রে এক দফায়। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ের সৈনিক তিনি। তাঁর প্রতিশ্রুতি— দক্ষিণ এশিয়ার আদর্শ রাজ্যে পরিণত করবেন তামিলনাড়ুকে। অপরদিকে, জয়ললিতার মৃত্যুর পর টানা তিনবার পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া এআইএডিএমকে। দলের সাধারণ সম্পাদক পালানিস্বামীর অনুরোধ ‘ভুল কাউকে বেছে নেবেন না।’ সঙ্গে এবারের নির্বাচনের ‘ফ্যাক্টর’ অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে। পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি পূর্ব— এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। স্ট্যালিন আর বিজয়ের জনপ্রিয়তার সামনে ফিকে এডিএমকে-বিজেপি জোট। কারণ বারংবার ভাঙনের জেরে দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা ক্ষয়িষ্ণু। আবার বহিষ্কৃত নেত্রী শশিকলার নতুন দল গঠনও ধাক্কা দিয়েছে এডিএমকে-কে। এডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ আই এস ইনবদুরাই সিসি ক্যামেরা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের কাছে জরুরি আবেদন করেছেন তিনি।
গণতন্ত্রের উৎসবে সাজসাজ রব দ্রাবিড়ভূমে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পট্টনায়েক জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে ৩৩ হাজার ১৩৩টি জায়গায় ৭৫ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত ৩ লক্ষাধিক ভোটকর্মী। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে মোতায়েন ৮ হাজার ৩০০-এর বেশি পুলিশ কর্মী। বুধবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের আগে নগদ টাকা, সোনা, মাদক দ্রব্য মিলিয়ে ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে রাজ্যে।