‘কৌশলে’ ভোটদানের গতি শ্লথ করতে ষড়যন্ত্র কমিশনের? প্রশ্ন, বুথে বুথে একই পোলিং অফিসারকে একাধিক দায়িত্ব
বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: একই পোলিং অফিসারকে বুথের মধ্যে একাধিক দায়িত্ব দিয়েই আজ ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন। সেইমতো জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশিকা। কিন্তু এভাবে একই অফিসারের কাঁধে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় প্রভাব ভোটদানের উপর পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে কি পশ্চিমবঙ্গে ‘কৌশলে’ ভোটপ্রক্রিয়ার গতি শ্লথ করার কোনো ফন্দি এঁটেছে কমিশন? তথ্যাভিজ্ঞ মহলে উঠছে এমনই অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বুথে ভোট করাতে নির্বাচন কমিশনের চারজন অফিসার আবশ্যিক। সেখানে কেন ‘ফার্স্ট পোলিং অফিসার’কেই প্রয়োজনে ‘প্রিসাইডিং অফিসারে’র অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? প্রতিটি রাজনৈতিক দলই চায়, অনেক বেশি হারে ভোট পড়ুক। সেখানে কমিশনের কাজে যুক্ত কর্মীদের এই অতিরিক্ত দায়িত্বের নির্দেশিকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনে সার্বিক ভোটদানের হার ছিল ৮১.৫৬ শতাংশ। মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ৮১.৭৫, পুরুষ ৮১.৩৭ শতাংশ। এবার পশ্চিমবঙ্গে পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭১৯। সকাল সাতটা থেকে সন্ধে ছ’ টা পর্যন্ত ভোটদানের সময়। কমিশনের হিসেবে একজন ভোটারের ভোট দিতে গড় সময় লাগে ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড। কিন্তু যদি ফার্স্ট পোলিং অফিসারকেই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাহলে সময়ের এই হিসাব মিলবে কি? উঠছে প্রশ্ন।
নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার বুথে ঢুকলে ফার্স্ট পোলিং অফিসার পরিচয়পত্র দেখে উচ্চগ্রামে তাঁর নাম উচ্চারণ করেন। তা শুনে বুথে বসা রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা নামটি মেলান। সবাই একমত হলে ‘মার্কড কপি অব ইলেকটোরাল রোলে’ ওই ভোটারের নামের বক্সে আড়াআড়ি লাল কালি দিয়ে দাগ টানেন ফার্স্ট পোলিং অফিসার। মহিলা ভোটার হলে সেটির সঙ্গে সিরিয়াল নম্বরে গোল করে দাগ দেওয়া হয়। এরপর সেকেন্ড পোলিং অফিসারের কাজ ভোটারের বাঁ হাতের তর্জনীতে নীল কালি লাগানো। ভোটারকে দিয়ে ফর্ম ১৭-এ পূরণ করান তিনি, যেখানে সই অথবা বুড়ো আঙুলের টিপ ছাপ দিতে হয়। এরপর হাতে ধরানো হয় একটি স্লিপ। কোনো ভোটার এই পর্বের পর ভোট দিতে না চাইলে ফর্ম ১৭-এ রেজিস্ট্রারের চতুর্থ কলামে লেখা হয় ‘রিফিউজড টু ভোট’ অথবা ‘লেফট উইদাউট ভোটিং’। বুথে থার্ড পোলিং অফিসারের দায়িত্ব হল কন্ট্রোল ইউনিটের (সিইউ) বোতাম অন করা। তার আগে ভোটারের আঙুলের কালি ঠিক আছে কি না সেটা পরখ করে নেন। সেকেন্ড পোলিং অফিসারের দেওয়া স্লিপটি জমা নেওয়ার তাঁর কাজ। ভোটার তবেই ছাড়পত্র পান ঘেরা জায়গায় ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে থাকা বোতাম টেপার। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি নজরদারি করেন বুথ-ইনচার্জ প্রিসাইডিং অফিসার। তিনিই নোট করেন ক’টার সময় কত শতাংশ ভোট পড়ল। সেটিই পরে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হয় কমিশনে। কিন্তু জেলায় জেলায় ফার্স্ট পোলিং অফিসারকেই প্রিসাইডিং অফিসারেরও দায়িত্ব পালনের নির্দেশিকা দেখে উঠছে প্রশ্ন— একই ব্যক্তিকে দুটি কাজ করতে হল ভোটদানের গতি শ্লথ হবে না তো?