সন্দীপন দত্ত, মালদহ: সূর্য তখন মাথার উপরে। তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গ্লুকোজ ঢালা হচ্ছে বড় বড় জলের জারে। পলিথিন দিয়ে তৈরি ছাউনি, নীচটা তখন যেন অগ্নিকুণ্ড। তারমধ্যেই মাটিতে বসে কাগজপত্র মিলিয়ে নিচ্ছেন ভোটকর্মীরা।
রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই দৃশ্যই দেখা গেল মালদহ কলেজের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার রিসিভিং সেন্টার বা ডিসিআরসিতে। এরই মধ্যে দেখা গেল পঞ্চাশোর্ধ্ব এক মহিলাকে। নিজের পায়ে কোনোরকম জোর নেই। এক সহকর্মীর কাঁধে ভর দিয়ে চলেফেরা করছেন তিনি। তিনি যে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নন, সেটা স্পষ্ট। তীব্র গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার। এক সহকর্মী তাঁকে ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন, একটু যদি কোথাও ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায়। কথা বলে জানা গেল তাঁর নাম বীণা চক্রবর্তী। দু’মাস আগে স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। দুই পা কার্যত অসাড়। কারও সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।
ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দা। মালদহ জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। এবারের বিধানসভা ভোটে তাঁর ডিউটি পড়েছে। যেহেতু বীণাদেবী ইংলিশবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার, তাই তাঁর ভোটের ডিউটি পড়েছে পাশের বিধানসভা কেন্দ্র মালদহে। কিন্তু এরকম শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি ভোটের ডিউটি করবেন কীভাবে? শরীরের যন্ত্রণা নিয়ে বীণাদেবী বলেন, ভোটের ডিউটি যখন, তখন যেভাবেই হোক কাজ করতেই হবে। অনেক সুস্থ সবল মানুষ শুধুমাত্র ভোটের ডিউটি না করার জন্য নানা বাহানা খুঁজতে থাকেন। প্রভাব খাটিয়ে বা নানা কারণ দেখিয়ে একাংশ কর্মী প্রতি বছরই ভোটের ডিউটি থেকে নিজের নাম কাটান। আপনি কেন নাম কাটানোর আবেদন করলেন না? উত্তরে বীণা বলেন, ভোটের ডিউটির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে নাম কাটানোর আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলেনি। মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রের রিজার্ভ ভোটকর্মী হিসেবে আমাকে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। কোনো বুথ পেলে তবুও একটু নিশ্চিত হওয়া যেত।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথে যাওয়ার পর যদি কোনো ভোটকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে রিজার্ভ ভোট কর্মীদের সেখানে ডিউটি দেওয়া হয়।