• পশ্চিম এশিয়ার সংকট, ১৩ বছরের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন সার উৎপাদন
    বর্তমান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশে জ্বালানি সংকট যে নেই, সেটা প্রমাণ করতে বিগত দেড় মাস ধরেই নিয়ম করে বিবৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। প্রতিনিয়ত তারা জানিয়েছে, কোনো সমস্যাই নেই। তাদের দাবি, সব জোগান স্বাভাবিক। বিকল্প পথে অশোধিত তেল, এলপিজি সবই আসছে। সুতরাং সংকটের কথা বলে কোনো গুজব যেন ছড়ানো না হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র বিপরীত। একদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ বন্ধ রয়েছে অথবা খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিযায়ী শ্রমিকের দল বৃহৎ শহরগুলি থেকে পালাচ্ছে। সুরাত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের ঢল দেখা গিয়েছে যারা নিজেদের রাজ্যে ফিরছে। কারণ কারখানায় বেতন মিলছে না। আবার এলপিজির দামও আকাশছোঁয়া। এমতাবস্থায় জানা যাচ্ছে, সরকারের ‘সব ঠিক আছে’ আশ্বাসের আড়ালে পরিস্থিতির ক্রমেই আরও জটিল হচ্ছে। কারণ এবার সার কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। বিগত ১৩ বছরের মধ্যে এখন সার উৎপাদন সবথেকে কম হচ্ছে।

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যে পরিমাণ সার উৎপাদন হয়েছিল, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সেই তুলনায় ২৭ শতাংশ কম উৎপাদন হয়েছে। ফসফেট, পটাশিয়াম সারের উৎপাদন কমে যাওয়ার একটি কারণ কাঁচামাল জোগানের অনিশ্চয়তা। এপ্রিল মাসে উত্তর ভারতের একাধিক বৃহৎ সার উৎপাদন কারখানা বন্ধ হয়েছে। যদি এলএনজি সাপ্লাই স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বর্তমান আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের আর্থিক বৃদ্ধিহার সামগ্রিকভকবে ধাক্কা খাবে। সার উৎপাদন কমে যাওয়ার জেরে সারের দাম বাড়বে। আর কৃষিপণ্যের দামও বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং খাদ্যের দাম হবে ঊর্ধ্বমুখী। সার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির সংগঠন বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছে, যাতে এলএনজি সাপ্লাই স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা হয়। একদিকে যেমন উৎপাদন কমে যাচ্ছে, তেমনই আমদানিও কমে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে বহু পণ্যবাহী জাহাজ আটকে গিয়েছে মার্চ মাস থেকে। আর এই অনিশ্চয়তার কারণে রপ্তানিকারী দেশগুলি আর পণ্য বাহী জাহাজ পাঠাচ্ছেও না। কারণ সেগুলিকে টার্গেট করা হলে লোকসান হবে বিপুল। সকলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
  • Link to this news (বর্তমান)