ভারতকে উদ্দেশ্য করে কুকথার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চূড়ান্ত অপমানের সুরে ভারতকে নরক বলে আক্রমণ করেন তিনি। এই ঘটনায় এবার মুখ খুলল নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানালেন, ‘এই সংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে।’ শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে ট্রাম্পকে তোপ দেগে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান।
একটি রেডিও পডকাস্টে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয় জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রদানের ইস্যুটি নিয়ে। সেখানেই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “ভারত, চিন বা অন্যান্য হেলহোল থেকে সকলে আসে, নবম মাসে আমেরিকায় এসে সন্তানের জন্ম দেয়, সেই সন্তান সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। তারপর সেই সন্তানের গোটা পরিবার আমেরিকায় এসে নাগরিক হয়ে যায়।” এখানেই শেষ নয়, মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে ‘ল্যাপটপ থাকা গ্যাংস্টার’ বলেও তোপ দেগেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এহেন মন্তব্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় বিশ্বে। প্রশ্ন ওঠে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে বলতে পারেন ট্রাম্প। বিতর্ক চরম আকার নিতেই বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। চরম আপত্তিকর মন্তব্যের পরও সেভাবে কোনও প্রত্যুত্তর দেখা যায়নি ভারত সরকারের তরফে। বিষয়টিকে কার্যত এড়িয়ে যাওয়ার ছলে রণধীর বলেন, ‘এই সংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে। এবং এই বিতর্ককে এখানেই শেষ করছি আমরা।’
তবে এই ইস্যুতে সরব হয়েছে কংগ্রেস। কড়া সুরে জানানো হয়েছে, এই ধরনের আপত্তিকর ও ভারত বিরোধী মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত ভারত সরকারের। তবে সরকার মুখ কুলুপ এঁটে রয়েছে। পাশাপাশি মোদিকে ‘দুর্বল প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের তোপ, ‘এর ফল পুরো দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে।’ তবে কেন্দ্র এই ইস্যুতে উচ্চবাচ্য না করলেও ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছে ইরান। ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, ‘চিন ও ভারত সভ্যতার আঁতুড়ঘর। প্রকৃতপক্ষে, আসল নরক হল সেই জায়গা, যেখানে বসে এক যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।’