সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের গণেশের আদলে বানানো যাবে না মূর্তি! কপিরাইট পেতে বড় পদক্ষেপ ট্রাস্টের
প্রতিদিন | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দেবতারও কপিরাইট! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবে এমনই পদক্ষেপ করছে মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্ট। সূত্রের খবর, এই মন্দিরের বিশেষ গনেশ মূর্তি যাতে কেউ তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারেন সেই লক্ষ্যে মূর্তির কপিরাইট বা স্বত্ত্ব নিতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। যা সাধারণত কোনও আবিষ্কার বা মৌলিক জিনিসের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়ে থাকে।
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত গণেশ মূর্তির বিশেষত্ব হল, এই দেবমূর্তির শুঁড় বাম দিকের পরিবর্তে ডানদিকে বাঁকানো। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এর প্রতিরূপ তৈরি করে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। এমনকী চিন থেকেও এই বিশেষ মূর্তির চালান পাঠানো হচ্ছে। মূর্তির প্রতিরূপ ঠেকাতেই কোমর বেঁধে নামতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। যদি এই শর্ত মঞ্জুর হয় সেক্ষেত্রে এই মূর্তি নকল করা বা ব্যবহার করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যার শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু মানুষ এই প্রতিমাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে যা রুখতেই এই উদ্যোগ।
জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের কাছে এই মূর্তির স্বত্ব নেওয়ার জন্য আইনজীবী প্রশান্ত মালিকে দায়িত্ব দিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সদা সর্বঙ্কর বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল দেবতার প্রতিমার বাণিজ্যকরণ বন্ধ করা। আমরা দেখেছি বহু প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ব্যবসায়িক লাভের জন্য মূর্তির প্রতিরূপ তৈরি করছে। ট্রেডমার্ক পাওয়ার পর, সিদ্ধিবিনায়ক প্রতিমার পবিত্রতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর বিধিনিষেধ চালু হবে।” যদি এই মূর্তি স্বত্ত্ব পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে তা এক বেনজির ঘটনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও বহু আইনজীবীই দাবি করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি কোনওভাবেই মান্যতা পেতে পারে না। কপিরাইট আইন বা স্বত্ত্ব কখনও ধর্ম বা ইতিহাসের উপর একচেটিয়া অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় না। ভাস্কর্য কিছু ক্ষেত্রে এই অধিকার পায় ঠিকই তবে সেক্ষেত্রে সুস্পষ্ট স্বত্বাধিকার এবং মৌলিকত্ব থাকতে হবে যার কোনওটাই এখানে নেই। মূর্তিটি বহু পুরনো ধর্মীয় নিদর্শন, যার স্রষ্টা অজানা এবং এটি কয়েক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে সর্বজনীন।
উল্লেখ্য, সরকারি নথি অনুযায়ী সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ১৮০১ সালের ১৯শে নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখানে উপাস্য দেবতা কালো পাথরের এক গণেশমূর্তি। যার উচ্চতা ২.৫ ফুট। এবং এর বিশেষত্ব হল, এখানে গণেশের শুঁড় বাম দিকের পরিবর্তে ডান দিকে ঘোরানো যা বিরল। মূর্তিটি চতুর্ভুজ। উপরের ডান হাতে একটি পদ্ম, উপরের বাম হাতে একটি ছোট কুঠার, নিচের ডান হাতে জপমালা ও অন্যদিকে মোদক ভর্তি একটি বাটি।