শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোটদানের হার নজিরবিহীন! বাংলা ও তামিলনাড়ুর ভোটারদের ‘স্যালুট’ জ্ঞানেশের
প্রতিদিন | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Elections 2026) প্রথম দফাতেই রেকর্ড ভাঙল বাংলা। রেকর্ড সংখ্যায় ভোটদানে নজির গড়ল। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ভোটের হার ৯০ শতাংশ। ২০১১ সালের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২৬ সালে রেকর্ড গড়ল বাংলা, তেমনটাই বলছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ১৬ জেলা থেকে দিনভর তেমন কোনও বড় অশান্তির খবর নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা থাকলেও গত ভোটগুলির তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনের নির্দেশ মতোই বুথে বুথে টহলদারি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
ডোমকলে তৃণমূল-সিপিএমের সংঘর্ষের ঘটনায় রিপোর্ট তলব করে কমিশন। কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি অভিযোগই খতিয়ে দেখে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট ময়দানে রয়েছে ২০০ মাইক্রো অবজারভার। ইভিএম বিভ্রাট সংক্রান্ত খবর পাওয়া মাত্রই প্রিসাইডিং অফিসাররা সক্রিয় হয়েছেন বলে দাবি করেন কমিশনে স্পেশাল অবজারভার।
প্রথম দফা ভোটের দিন পরিস্থিতি জানতে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালকে বৃহস্পতিবার সকালেই ফোন করেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, ফোনে জ্ঞানেশ কুমার জানতে চেয়েছেন ভোট কেমন চলছে? কোনও অশান্তি হচ্ছে না তো? মনোজ আগরওয়ালও তাঁকে পরিস্থিতির খুঁটিনাটি জানিয়েছেন বলে খবর। ভোটপর্ব মিটে গেলে বৃহস্পতিার রাতে অথবা শুক্রবার সকালে ভারচুয়াল বৈঠকে হতে পারে মনোজ আগরওয়াল ও জ্ঞানেশ কুমারের। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুপুর ১ টা পর্যন্ত কমিশনে ১ হাজার ৪০৩ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
কমিশনের নজরদারিতে বাংলা ও তামিলনাড়ুর শান্তিপূর্ণ ভোট মিটতেই দুই রাজ্যের জনতাকে স্যালুট জানালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন, “বাংলা ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনে রেকর্ড ভোটের হার। দুই রাজ্যের ভোটারদের স্যালুট জানাই।”
প্রসঙ্গত, এদিন বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “গত ৫০ বছরে সবথেকে কম হিংসার নির্বাচন দেখছে বাংলা।” ভোটারদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ও কমিশনের কড়া নজরদারিতেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।