• ভোট উৎসবে বেরঙিন নবাব পরিবার, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ শতাধিক সদস্যের
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • রাজ্যে যে কোনও নির্বাচন মানেই মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের সদস্যদের কাছে ছিল এক উৎসবের মেজাজ। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই চেনা ছবিটা উধাও। গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসবে সামিল হতে পারলেন না নবাব মীরজাফরের বংশধরদের একটি বড় অংশ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বৃহস্পতিবার একরাশ আক্ষেপ আর মন খারাপের মধ্যে দিয়েই দিন কাটল কেল্লা নিজামতের বাসিন্দাদের।

    ​মুর্শিদাবাদের লালবাগ শহরের ‘কেল্লা নিজামত’  এলাকায় ঘণ্টা ঘরের কাছে আজও বসবাস করেন নবাব মীরজাফরের বংশধররা। বর্তমানে তাঁর ১৫তম বংশধর মহম্মদ রেজা আলি মির্জা— যিনি মুর্শিদাবাদে ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত। তাঁর পুত্র সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জা সপরিবারে সেখানেই থাকেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও, এ বারের নির্বাচনে ‘এসআইআর’ (SIR)-এর গেরোয় ভোটদান পর্ব থেকে বঞ্চিত হলেন ছোটে নবাব এবং ফাহিম মির্জা-সহ পরিবারের শতাধিক সদস্য।

    ​ভোটের দিন সকালে কুতুবপুর নব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২১ নম্বর বুথে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ৮০ ছুঁইছুঁই ছোটে নবাব। ভেবেছিলেন নথিপত্র নিয়ে গিয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা ও সবদিক বিবেচনা করে আর বুথমুখো হননি তিনি। সারাদিন বাড়িতে বসেই টেলিভিশনের পর্দায় ভোটের খবরের দিকে নজর রেখে সময় কাটে তাঁর।

    ​অন্যদিকে মীরজাফরের ১৬তম বংশধর তথা মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ফাহিম আলি মির্জা জানান, ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। এই প্রথম তাঁর আঙুলে ভোটের কালি পড়ল না। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন ফাহিম। বুথ থেকে ১০০ মিটার দূরে বসে ভোটারদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করেছেন তিনি।

    ​গলায় আক্ষেপের সুর নিয়ে ফাহিম বলেন, ‘হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের সমস্ত নবাবী স্থাপত্য আমাদের পূর্বপুরুষদের তৈরি। আমাদের পরিবারের হস্তক্ষেপেই মুর্শিদাবাদ জেলা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অথচ আজ এসআইআর-এর নামে আমাদেরই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। একসময় আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের ন্যায়বিচার দিতেন, আজ নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গেই ন্যায় করতে পারল না।’

    ​ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে শতাব্দী প্রাচীন পারিবারিক ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে আক্ষেপ থাকলেও হাল ছাড়ছেন না নবাব পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের আশা, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন করবে এবং আগামী নির্বাচনে আবারও সগৌরবে ভোট উৎসবে শামিল হতে পারবেন নবাব পরিবারের সমস্ত সদস্য।

  • Link to this news (এই সময়)