যত কাণ্ড নওদাতে!
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পরে ওয়েব ক্যামেরা খুলে জমা দিতে হবে সেক্টর অফিসে। আর, ARO-র উপস্থিতিতে SD কার্ড খোলা হবে DCRC (Receiving Centre)-তে। কিন্তু ওই ক্যামেরা খোলার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। সেই কারণে নওদার একাধিক ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে খোলা যায়নি ওয়েব ক্যামেরা। গভীর রাত পর্যন্ত ক্যামেরা খোলা না হওয়ায় বিপাকে ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাতে তাঁদের ফেরা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।
প্রসঙ্গত, ভোটের আগের রাত থেকেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নওদা বিধানসভা কেন্দ্র। বুধবার রাতে শিবনগরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের কাছে বোমাবাজি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নওদা'র শিবনগর প্রাথমিক স্কুলের ১৭৩ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তৃণমূলের লোকজনের সংঘর্ষ বাধে। তার জেরে রাস্তা অবরোধ, ইঁট-পাটকেল ছোড়া থেকে লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা--বাদ যায়নি কিছুই।
নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে। সে সব সামাল দিয়ে ভোটগ্রহণ পর্ব সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টার মধ্যে মিটে যায়। তার পরেও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারেননি ভোটকর্মী থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কারণ, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে ওয়েব কাস্টিং (Web Casting) করার জন্য যে ওয়েব ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, তা খুলে নেওয়ার জন্য কোনও কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ রয়েছে, ওয়েব ক্যামেরা (Web Camera) না খোলা পর্যন্ত কোনও ভোটকর্মী ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছেড়ে যেতে পারবেন না। ওই নির্দেশ মানতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের সাতটি সেক্টরের প্রায় ৬৩টি বুথের ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেক্টর অফিসার বলেন, ‘ওই ওয়েব ক্যামেরা লাগানোর দায়িত্ব ছিল ব্লক প্রশাসনের উপরে। রাতে বেলডাঙা-১ এর বিডিও, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সকলকে ফোন করা হলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। যাঁদের ওয়েব ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের মোবাইলে ফোন করলে 'আসছি' বলে পরে আর ফোন তুলছে না নয়তো ফোন বন্ধ করে রাখছে।’ ফলে সমস্যায় পড়েছেন তিনিও। রাতে তিনি ফোন করেছিলেন এলাকার রিটার্নিং অফিসারকে। দু'একটা কথা বলার পরে তিনিও ফোন কেটে দিয়েছেন বলেও দাবি ওই সেক্টর অফিসাররের । এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন বা বলেও জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
এক প্রিসাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, এই সমস্যা দেখা দিয়েছে সাতটি সেক্টরে। বুথ প্রতি চার জন ভোটকর্মী ও চার জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকজন আটকে পড়েছেন । রাতে সকলে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।