• ভাঙল ‘পরিবর্তন’-এর ভোটের রেকর্ডও! কেন? কী বলছে কমিশন?
    এই সময় | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়

    ভেঙে গেল সব রেকর্ড! রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই সামনে ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে পরিসংখ্যানবিদদের। সামনে আসছে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য। তাঁরা বলছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলায় এত বিপুল হারে ভোটদান এর আগে কখনও দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে তৈরি হলো গণতন্ত্রের এক নতুন ইতিহাস।

    নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে গড়ে ভোট পড়েছে রাত ৯টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ! সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়, ৯৫.২২ শতাংশ। সবচেয়ে কম কালিম্পংয়ে, ৮২.৯৯ শতাংশ।

    এদিন তামিলনাড়ুতেও ভোট ছিল। তাদের এক দফার নির্বাচনেও ভোটদানের হার ছিল চোখে পড়ার মতো— ৮৪.৮৯ শতাংশ। দুই রাজ্যেই বুথে বুথে এই বিপুল জনস্রোত দেখে উচ্ছ্বসিত দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দুই রাজ্যেই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর প্রত্যেক ভোটারকে এর জন্য স্যালুট জানাচ্ছে।’

    নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে লোকসভা ও বিধানসভা মিলিয়ে বাংলায় সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সে বার ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ।

    এ বারের প্রথম দফাতেই সেই রেকর্ড প্রায় ৮ শতাংশ ব্যবধানে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় কত ভোট পড়ে, তার উপরে নির্ভর করছে সার্বিক চিত্রটা।

    এ বারের ভোটের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো মহিলাদের বিপুল অংশগ্রহণ। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, পুরুষদের ভোটদানের হার যেখানে ৯০.৯২ শতাংশ, সেখানে মহিলাদের ভোটদানের হার ৯২.৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার প্রায় ২ শতাংশ বেশি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও বাংলায় পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার ২ শতাংশ বেশি ছিল।

    স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটারদের এই অভূতপূর্ব উৎসাহের নেপথ্যে কারণ কী? রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO), মনোজ আগরওয়াল এই রেকর্ড ভোটদানের একটি টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

    তাঁর মতে, ‘গোটা দেশেই সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত ভোট হয়েছে, সবগুলিতেই দেখা গিয়েছে গড়ে ভোটদানের হার বেড়েছে। তা ছাড়া এবার বাংলায় SIR-এর জন্য মৃত, অনুপস্থিত, নিখোঁজ এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সেই নামগুলি বাদ যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই গড় ভোটদানের হার বেড়ে থাকতে পারে।’

    কারণ যাই হোক, এই রেকর্ড ভোটদানে লাভ হলো কোন পক্ষের, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পরিবর্তনের ভোটে মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানোর। ছাব্বিশে সেই রেকর্ড ভেঙে গেল। এটা কি তা হলে ‘পাল্টানো’র ইঙ্গিত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনে রাখতে হবে ভোটের অঙ্ক কিন্তু এতটা সরল নয়, পাটিগণিতের নিয়ম এখানে অচল।

  • Link to this news (এই সময়)