ভোটের শেষ লগ্নে এসে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। কুঞ্জঘাটা এলাকার ১ নম্বর বুথে কংগ্রেস পোলিং এজেন্টের পরিবারকে নৃশংস ভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত এজেন্ট মনোরঞ্জন সরকারকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বৃদ্ধ পিতা বিষ্ণু সরকার গুরুতর জখম হয়েছেন। এমনকী খাবার নিয়ে আসা এক নাবালককেও রেয়াত করা হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আহত বিষ্ণু সরকার বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মারধরের অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের।
ঘটনা নিয়ে আক্রান্ত পোলিং এজেন্ট মনোরঞ্জন সরকারের বলেছেন, ‘আমি বুথে ছিলাম। আমার বাড়ির এক নাবালক সদস্য খাবার দিতে এসেছিল। তৃণমূলের লোকজন তাকেও মারধর করে। সে কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে তৃণমূলের লোকজন আমার উপর চড়াও হয়। আমাকে মারতে দেখে বাবা বাঁচাতে এলে, বাবাকেও বেধড়ক মারধর করেছে। যারা মেরেছে তারা আমার পাড়ারই লোক।’
ঘটনা প্রসঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, 'ওদের মূল টার্গেট শেষ বেলায় ভোট লুট করা। অন্যান্য বুথে ৯০ শতাংশ ভোট পড়লেও এখানে ইচ্ছা করে পোলিং স্লো করানো হয়েছে যাতে ৬০ শতাংশও পার না হয়। টাউন বাবু (পুলিশ আধিকারিক) থেকে শুরু করে প্রশাসনের সবাই এই পরিকল্পনায় সামিল। বিটি কলেজ-সহ কয়েকটা জায়গায় ওরা এ ভাবেই সন্ত্রাস করানোর পরিকল্পনা করেছে। আমরা এই অরাজকতা রুখতে এসেছি এবং রুখব।'
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে মারধরের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অধীর চৌধুরী ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। ওই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবে রাজনীতির যোগ নেই,। এটি স্থানীয় কোনও বিবাদের ফল হতে পারে।’
ইতিমধ্যেই ওই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।