বম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চ রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে (আরবিআই) ২০১৬-র নোটবন্দির সময় এক ব্যক্তির থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোট ২ লক্ষ টাকা মূল্যের পুরনো ৫০০ টাকার নোট বদলে বৈধ মুদ্রা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর গিরীশ মলানি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ টাকার ৪০০টি নোট পুলিশি তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হয়। সেই সময় নগদ টাকা লেনদেনের উপর বিধিনিষেধ থাকায় এবং নির্বাচন চলায় পুলিশ টাকাগুলি মাহুর থানায় জমা দেয়। নোটবন্দির পরে পুরনো নোট জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু পুলিশ গিরীশকে টাকাগুলি ফেরত দেয় ৩১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পরে। নোটগুলি পুলিশের হেফাজতে থাকার কারণে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমার (৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬) মধ্যে বদলে নিতে পারেননি। আয়কর বিভাগ তদন্ত করে নিশ্চিত করে যে টাকাগুলি বৈধ ছিল, কিন্তু ততদিনে নোট বদলের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে নোট বদলের আবেদন করলে, তারা অবশ্য তা খারিজ করে। আরবিআই নোট বদলাতে অস্বীকার করেছিল এই যুক্তিতে যে, পুলিশ বাজেয়াপ্ত করার সময় সেগুলির সিরিয়াল নম্বর নথিভুক্ত করেনি। তবে আদালত এই ‘কঠোর’ (রিজিড) পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করে নাগরিকের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছে।
বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি উর্মিলা জোশী-ফালকে এবং বিচারপতি নিবেদিতা মেহতার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনও দোষ ছিল না। টাকাগুলি নির্ধারিত সময়সীমার আগে পুলিশের হেফাজতে চলে গিয়েছিল এবং সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। আদালত জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের ভুলের জন্য কোনও নাগরিককে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা যায় না। তার পরেই নির্দেশ দেওয়া হয়, আবেদনকারীকে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই পুরনো নোটগুলি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে পরের সাত সপ্তাহের মধ্যে নোটের সত্যতা যাচাই করে সমপরিমাণ বৈধ টাকা ওই ব্যক্তিকে প্রদান করতে হবে।