বাংলার চেয়ে অনেক কম দামে আলু কেনা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে
বর্তমান | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাংলায় এসে আলু চাষিদের জন্য চোখের জল ফেলছেন প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথরা। তাঁরা বাংলায় এসে বলছেন, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে চাষিরা আলুর ভালো দাম পাচ্ছেন। শুধু বাংলার চাষিরা পাচ্ছেন না। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। ১৮এপ্রিল কেন্দ্রের কৃষিমন্ত্রক উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলু কেনা হবে কেজি প্রতি ৬টাকা ৫০পয়সা দামে। অথচ বাংলায় রাজ্য সরকার আলু কিনেছে কেজি প্রতি ৯টাকা ৫০পয়সা দামে।
কয়েকদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলার আলু চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ। উত্তরপ্রদেশ থেকে সাড়ে ছ’টাকায় আলু কিনতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে যোগী রাজ্যের চাষিরাও ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁদের দাবি, মাঠ থেকে দু’মাস আগে আলু উঠে গিয়েছে। চাষিরা হিমঘরে আলু রেখেছেন। এত দেরিতে আলু কিনলে ব্যবসায়ী ও ফড়েরা লাভবান হবে। তাছাড়া, এই দামে সরকারকে আলু বিক্রি করলে লাভ দূরের কথা, চাষের খরচ উঠবে না।
বাংলায় রাজ্য সরকার জমি থেকে আলু ওঠার সময়ই তা কিনেছে। দাম দিয়েছে প্রতি কেজিতে ৯টাকা ৫০পয়সা। ন’লক্ষের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আলুচাষির আলু এবার হিমঘরে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় এক কোটি বস্তা আলু ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন রাজ্যে নিয়মিত আলু যাচ্ছে।
বিদায়ী কৃষি বিপণনমন্ত্রী তথা সিঙ্গুরের তৃণমূল প্রার্থী বেচারাম মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলায় এসে আলুচাষিদের নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। আমাদের সরকার সবসময় চাষিদের পাশে থেকেছে। বিনামূল্যে আলুচাষিদের জন্য বিমা করেছে। উত্তরপ্রদেশে আলু উঠে যাওয়ার দু’মাস পরে কেজি প্রতি সাড়ে ছ’টাকা দাম দেবে বলে ঠিক করেছে। আর আমাদের রাজ্য সরকার অনেক বেশি দামে আলু কিনেছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আলুর ফলন অনেক বেশি হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ভিন রাজ্যে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর আরও বেশি করে আলু পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের সরকার প্রথম থেকে ভাবেনি। তাই ওই রাজ্যে আলুচাষিরা কাঁদছেন। অথচ মোদি-যোগীরা বাংলায় এসে মিথ্যাচার করছেন।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমানে সভা করতে এসে বলেছেন, একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাষিদের কথা ভাবেন। তিনি চাষিদের জন্য কৃষকবন্ধু, শস্যবিমা প্রকল্প চালু করেছেন। এবছর ফলন বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সামনের বছর থেকে চাষিদের যাতে অভাবী বিক্রি করতে না হয়, সেজন্য পদক্ষেপ করা হবে।