জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে থাকা স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে উদ্বেগ ছড়ায়। অভিযোগ উঠেছিল, স্ট্রং রুমের ভিতরের এবং বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি মাঝেমধ্যেই কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন বায়রন বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, ক্যামেরার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আলোও বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতিতে বায়রন বিশ্বাস যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বাকিরাও।
বায়রনের অভিযোগ ছিল, তৃণমূল প্রার্থীদের পরিকল্পিত ভাবে হারানোর জন্য গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘গভীর রাতে বার বার কেন ক্যামেরা বন্ধ হবে? কেনই বা দীর্ঘক্ষণ আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছিল? বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের জানানোর পরেও কেন দ্রুত সমাধান করা হয়নি? আমাদের হারানোর জন্যই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।’ এর পরে বায়রন বলেন, ‘এখনকার জেনারেটর এতটাই আধুনিক যে, লোডশেডিং হলে এক মিনিটের বেশি সময় লাগে না। তা সত্ত্বেও আমি জেনারেটর চালু হতে পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। টেকনিক্যাল ফল্ট! আমরা সব বুঝি। কোনও টেকনিক্যাল ফল্ট নয়, এটা দিল্লি ফল্ট। ভোটের আর দরকার নেই বাংলায়। আমার বিধানসভায় আমি হারছি। জঙ্গিপুরে জাকির সাহেব হারছে, সামশেরগঞ্জে নূর আলম হারছে। ফরাক্কাতে আমিরুল হারছে। রাজ্যের কথা বলতে পারব না। ক্যামাক স্ট্রিট ভাল করে জানে আর সেন্ট্রাল ফোর্স ভাল জানে।’
জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকার চারটে আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা হারছে--এমন মন্তব্যে শোরগোল পড়েছে জেলায়।
সামশেরগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী নূর আলম বলেন, ‘আমি বায়রনের ভিডিয়ো দেখেছি। বায়রন বিশ্বাস যা নিয়ে মন্তব্য করতে চেয়েছেন আর যা মন্তব্য করেছেন, তার মধ্যে ফারাক রয়েছে। আরও সচেতন হয়ে ওর মন্তব্য করা উচিত ছিল। মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।’
ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বায়রন ওই মন্তব্য করেছে। আসলে দিল্লির নির্দেশে তৃণমূল প্রার্থীদের হারাতে চাইছে কমিশন। ফলে আবেগতাড়িত হয়ে ওই মন্তব্য করেছে বায়রন। ভুল বোঝাবুঝির কোনও জায়গা নেই।’
জঙ্গিপুরের তৃণমূল প্রার্থী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
বায়রনের মন্তব্য প্রসঙ্গে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, ‘বায়রন কখন কী বলে বায়রন জানে। আর কেউ জানে না। বায়রনকে সাগরদিঘির মানুষ এ বার বাই বাই বলবে। ও ভাল ছেলে। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।’ বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষের কটাক্ষ, ‘রাতে বায়রনের মুখ দিয়ে সত্যি কথা বেরিয়ে গিয়েছে। এ বার বিজেপি ভাল ফল করবে, সেটা তৃণমূলের বায়রন বুঝে গিয়েছে।’
এদিকে তাঁর মন্তব্য বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরে শনিবার রাতে বায়রন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি যা বলতে চেয়েছিলাম, তা গুছিয়ে বলতে পারিনি। ফলে আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। ভুল তো মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী থেকে নেতা-মন্ত্রীদের হয়ে থাকে। আমারও ভুল হয়েছে।’