মেঝেতে বাবু হয়ে বসে আছেন অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। পাশে একদম ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধুবান্ধব। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাড়িতে একসঙ্গে রাতের খাওয়াদাওয়া করছেন তাঁরা। মুখে সেই অনাবিল হাসি। শনিবার তাঁর জন্মদিন (Birthday) ছিল। ৩৯ বছরে পা দিলেন গায়ক (Arijit Singh Celebrating his Birthday)। একটু আগে কেক কেটেছেন। তার পরে যৎকিঞ্চিৎ আহার। মেনুতে কী ছিল?
প্লেব্যাক সিঙ্গিং ছেড়েছেন কয়েক দিন আগেই। তবে মাটির কাছাকাছি থাকার অভ্যাস ছাড়েননি। প্রথম দফার নির্বাচনে স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। বুথ থেকে বেরোনোর পরেই ঘিরে ধরেছিলেন সাংবাদিকরা, ‘একবার আঙুলের কালিটা দেখান। কোনও বার্তা দেবেন?’ সে কথা শুনে কী হাসি অরিজিতের, ‘আমি আবার কী বার্তা দেব, লোকে তো বলবে...।’ হাসতে হাসতে আর কথা শেষ করতে পারেননি। তিনি এমনই। অনাড়ম্বর।
জন্মদিনও সেই রকমই অনাড়ম্বর। আর পাঁচটা বাড়িতে যে ভাবে পালন হয়, একদম সেই রকম ভাবেই কাটালেন। কেক কাটা, একটু ভালো-মন্দ খাওয়াদাওয়া, ব্যস। রাত জাগা অভ্যাস অরিজিতের। গান নিয়েই কেটে যায়। রেকর্ডিং, রেওয়াজ। আর সকালটা ঘুমোন। তাই প্রতি বছর রাতেই কেক কাটেন।
এ বারেও তার অন্যথা হয়নি। অরিজিতের বাবা সুরিন্দর সিংয়ের কথায়, ‘ছেলে আমার কোনও দিনই ঘটা করে জন্মদিন পালন করে না। রাতের দিকে ওর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধুবান্ধব আসে। এ বারে বৌমা সবার জন্য বিরিয়ানি আর চিকেন চাপ রান্না করেছিল।’ তবে খাওয়াদাওয়াতেও কোনও জাঁক নেই অরিজিতের। সুরিন্দর বলেন, ‘ও বরাবরই ডাল, ভাত আলু ভাজারই ভক্ত।’
অরিজিৎ নিজেও ভালো রান্না করেন। মায়ের কাছ থেকেই শেখা। সুরিন্দরের কথায়, ‘চিকেন আর মাটন খুব ভালো রাঁধে।’ জিয়াগঞ্জে একটি রেস্তোরাঁও খুলেছেন অরিজিৎ। ৩০-৪০ টাকায় ভরপেট খাবার। এলাকার গরিব মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। এতেই তিনি খুশি।
ছোটবেলায় জিয়াগঞ্জের রাজা বিজয় সিংহ মন্দির স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। কিশোর অরিজিৎকে কাছ থেকে দেখেছেন শিক্ষক অরুণ কুমার দাস। তিনি বললেন, ‘এখনও রাস্তায় দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। জন্মদিনে আশীর্বাদ করি, আরও বড় হোক।’ খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও মাটির কাছাকাছি থাকা একটা শিল্প। সবাই আয়ত্ত করতে পারেন না। অরিজিৎ পেরেছেন। এই মাটি, এই আলো, এই আকাশেই মুক্তি খোঁজেন তিনি।