‘খামে টাকা পেয়েছেন বলেই কি নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছেন?’ ভাঙড়ে গিয়ে নওশাদকে তোপ অভিষেকের! জোট-কটাক্ষও
আনন্দবাজার | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ভাঙড়ে দাঁড়িয়ে আইএসএফ প্রার্থী তথা ‘ভাইজান’ নওশাদ সিদ্দিকিকে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে কেন প্রার্থী দিল নওশাদের দল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। একই সঙ্গে বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র প্রশ্ন, ‘‘নন্দীগ্রামে কেন সিপিএম এবং আইএসএফ, জোটে থাকা দু’দলই প্রার্থী দিল? কাকে শক্তিশালী করতে চায় তারা? খামে ভরে টাকা পেয়েছেন বলেই কি নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিলেন নওশাদ?’’ উল্লেখ্য, আইএসএফের নির্বাচনী প্রতীক খাম। ভাঙড়ের সভায় সেই খামের প্রসঙ্গ টানলেন অভিষেক।
ভাঙড়ের সভাতেও আইএসএফ-কে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘অমিত শাহকে নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ। আর সেই সিআরপিএফ নওশাদেরও নিরাপত্তার দায়িত্বে। কী এমন চুক্তি হয়েছে? কোনও উত্তর আছে কি তাদের কাছে?’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার সঙ্গে তুলনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী, সাত বারের সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপত্তা দেয় রাজ্য পুলিশ। আর নওশাদ এবং হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে অমিত শাহের সিআরপিএফ।’’ সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিষয় উল্লেখ করে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘‘আপনাদের মধ্যে যদি এতটুকু মানবিকতা থাকে তো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আপনাদের সুরক্ষা দেবে।’’
অভিষেকের অভিযোগ, নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে বিজেপি-কে সুযোগ করে দিতে চায় আইএসএফ এবং সিপিএম। তৃণমূল ‘সেনাপতি’র কথায়, ‘‘যদি ওদের মনে হয় আমি মিথ্যা কথা বলছি, তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা ভাঙার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। যাঁরা ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের থেকে দূরে থাকুন। ভাঙড়ে বিজেপির বি-টিমদের কোনও জায়গা নেই।’’ আরাবুল ইসলামকে দলে নিয়ে ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।
ভাঙড় ছাড়াও বসিরহাটেও শনিবার জনসভা করেন অভিষেক। সেই সভা থেকে দ্বিতীয় দফার ভোটে ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকানোর ডাক দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম দফাতে আমরা ১০০ আসন পেয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় দফার ভোটে আমরা আরও ১০০ আসন পাব। আমাদেরই সরকার হবে।’’ একই সঙ্গে তিনি এ-ও অভিযোগ করেন, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে কোনও সাংসদ নেই। জোর করে দু’বছর বিষয়টা আটকে রেখেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেম হাজী নুরুল ইসলাম এবং বিজেপির প্রার্থী ছিলেন রেখা পাত্র। সেই নির্বাচনে জিতেছিলেন নুরুল। কিন্তু সেই ফলাফল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রেখা। আদালতে এই নিয়ে মামলা চলাকালীন মৃত্যু হয় নুরুলের। তবে এখনও ওই আসনে উপনির্বাচন হয়নি। ফলে সাংসদ নেই বসিরহাটে। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, ‘‘আমিই আপনাদের সাংসদ।’’ বসিরহাটের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেতা।