• দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে কমবে গরম? কবে ঝড়বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে?
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: টানা কয়েক দিন দীর্ঘ দহনের পরে অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। কাঠফাটা রোদ আর প্যাচপ্যাচে গরম থেকে মুক্তি দিতে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী। আজ, রবিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত এবং ওডিশা পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখার যুগলবন্দিতেই এই বদল। এর জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট চলবে আগামী কয়েক দিন।

    হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ঝড়ের দাপট সবথেকে বেশি থাকবে। ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে হাওয়া। কলকাতায় ৩০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দপ্তর। বুধবার, রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির এই দাপট চলার সম্ভাবনা।

    ফলে এপ্রিলের শেষবেলায় পারদ পতনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি কম। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি বজায় থাকবে।

    দক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির অপেক্ষায়, উত্তরবঙ্গ তখন ভিজছে অকালবর্ষণে। ধূপগুড়ি, বানারহাট, গয়েরকাটা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল ঝড়ে গাছ উপড়ে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড় ও সমতলের চাষিরা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রবল আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষিণ বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখার টানে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। এর ফলেই তৈরি হয়েছে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি। মে মাস শুরুর আগে এই ঝড়বৃষ্টি সাধারণ মানুষকে প্রবল গরম থেকে স্বস্তি দেবে, তবে বজ্রপাতের সময়ে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Link to this news (এই সময়)