• ‘গুন্ডাদের কি ভালোবাসব?’ তোপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, শাহের নামে মামলা চান ক্ষুব্ধ মমতা
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় এ বারের বিধানসভা নির্বাচনী এখনও প্রায় ৩৫টি সভা করে ফেলেছেন অমিত শাহ। প্রায় প্রতিটি সভাতেই নিয়ম করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের গুন্ডা, সিন্ডিকেটের সদস্যদের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সিধা করে দেওয়া হবে।’ তাঁর এমন হুঁশিয়ারির পরে স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী এমন কথা কি আদৌ বলতে পারেন? প্রকাশ্য সভা থেকে এমন হুমকির প্রেক্ষিতে কেনই বা নির্বাচন কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করছে না? এই আবহে শনিবার নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের আইনজীবীদের শাহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিলেন। ঘটনাচক্রে এ দিনও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এবং হাওড়ার শ্যামপুরের জোড়া সভা থেকে শাহ উল্টো করে ঝুলিয়ে সিধা করার দাওয়াই প্রয়োগের নিদান ফের দিয়েছেন। মমতা যে তাঁর মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তার উল্লেখ করে শাহের পাল্টা প্রশ্ন— ‘গুন্ডাদের ভয় দেখাব না তো কি ওদের সঙ্গে কোলাকুলি করব?’

    শ্যামপুরের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘দিদি আমার উপরে ক্ষেপে যাচ্ছেন এই কারণে যে, অমিতভাই গুন্ডাদের ধমকাচ্ছেন। কাল বলছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে আমি গুন্ডাদের ভয় দেখাচ্ছি।’ তার পরেই শাহের প্রশ্ন, ‘বলুন তা হলে কী করব? ওদের সঙ্গে কোলাকুলি করব? দিদি, আপনার গুন্ডাদের গ্যারেজে ঢুকিয়ে দিন। মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে কাউকে ছাড়া হবে না।’ ফের তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘৪ তারিখের পরে তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সিধা করে দেওয়া হবে।’

    আবার এ দিন হুগলির উত্তরপাড়ায় নির্বাচনী সভা থেকে শাহের উদ্দেশে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘আপনি কী করে মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন যে, কাউকে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে? পা উপরে আর মাথা নীচে! আপনি হিংসার কথা বলছেন, সন্ত্রাসের কথা বলছেন। কিন্তু আমি জানি, কোনও ব্যবস্থা এঁদের বিরুদ্ধে কেউ নেবে না! কিন্তু ল–ইয়ার যাঁরা এখানে আছেন, তাঁদের বলব, ওই ভিডিয়ো আমার কাছে আছে। আমি কেস করতে বলেছি। ইটস এ ক্রাইম, এ কথা হোম মিনিস্টার বলতে পারেন না। আমি যেমন বলতে পারি না, অন্যরাও বলতে পারেন না। আইন সবার জন্য এক।’

    ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট প্রসঙ্গে শাহের নাম না করে মমতা অভিযোগ করেন, ‘মোটাভাই সিআরপিএফের একজনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নন্দীগ্রামে যাঁকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে মিটিং করে বলেছে, ভোট স্লো করে দাও। আমার ভবানীপুরেও একে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার তাতে কাঁচকলা হয়েছে।’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে না ঘুরে মণিপুরে যান, নয়ডাতে কী হচ্ছিল সেটা বলুন।’ মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, ‘আরামবাগ এলাকায় বিজেপির গুন্ডারা গোলমাল পাকাতে পারে। যাতে বাইরের গুন্ডারা ঢুকতে না পারে, সবাইকে বলব, যত হোটেল আছে, যত গেস্ট হাউস আছে, যত ধর্মের জায়গা আছে, খেয়াল রাখুন। এরা কিন্তু গেরুয়া কিনে পরছে, আসল সাধু নয়, এরা নকল।’

    উল্টো দিকে, জামালপুরের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন, যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোট চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওঁদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমঃশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ মের পরে মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি।’

    এর পরে আরও একবার ‘দিদির গুন্ডা’দের প্রসঙ্গ তোলেন শাহ। তিনি বলেন, ‘দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে (দ্বিতীয় দফায় ভোট) ঘরের বাইরে যেন না দেখতে পাই। যদি বার হয়, তা হলে ৫ তারিখের পরে উল্টো করে ঝোলাব।’ এর পরেই মমতাকে উদ্দেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আরে দিদি, গুন্ডাদের কি ভালোবাসব আমি! গুন্ডাদের ধমকানো উচিত কি না, আপনারা বলুন তো? এখন শুধু ধমকাচ্ছি, শুধরে যাও। না হলে তোমাদের জায়গা হবে জেলের ভিতরে।’

    এ বার বিজেপিই বাংলায় সরকার গড়বে দাবি করে জামালপুরের সভায় শাহ বলেন, ‘প্রথম দফায় বিজেপি ১১০টি আসন জিতবে। দিদির খেলা শেষ করে দেবে। এখানে পদ্মফুল ফুটবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ৪ মে বর্ধমানের সীতাভোগ মোদীজিকে খাইয়ে ওঁর মুখমিষ্টি করব।’

  • Link to this news (এই সময়)