নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের থিঙ্কট্যাংক এবং বিজেপির কাশ্মীর নীতিসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কজনিত কৌশল নির্ধারণের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত রাম মাধবের বক্তব্য নিয়ে চরম ব্যাকফুটে মোদি সরকার এবং বিজেপি। রাম মাধবের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রবল তোপ দেগেছেন রাহুল গান্ধী। শনিবার আরএসএসকে তাঁর বিদ্রুপ, ‘রাষ্ট্রীয় সারেন্ডার সংঘ’। সরাসরি নরেন্দ্র মেদিকেও ‘সারেন্ডারবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি আমেরিকায় নিয়ে হাডসন ইনস্টিটিউটের এক আলোচনা সভায় মার্কিন প্রশাসনের প্রাক্তন কর্তাদের সামনেই রাম মাধব কার্যত বিরোধীদের সুরেই বলে ফেলেছেন যে, ভারত সরকার আমেরিকার চাপানো তেল আমদানি সংক্রান্ত শর্ত মেনে নিয়েছে। ইরান ও রাশিয়া থেকে ভারত তেল আমদানি করতে পারবে না বলে আমেরিকা যে শর্ত আরোপ করেছে, তা মেনে নেওয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশ শুল্ক যখন আরোপ করা হয়েছিল সেটাও ভারত মেনে নিয়েছে। এমনকী বাণিজ্য চুক্তির শর্তের মধ্যেও ১৮ শতাংশ শুল্ক মেনে নেয় ভারত। এত কিছু সত্ত্বেও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ও মার্কিন সরকারের মনোভাবে এরকম একটি তিক্ততা কেন বজায় থাকছে যেটা বোঝা যাচ্ছে না।
তাঁর এই বক্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। রাম মাধবের উপর যে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা স্পষ্ট। কারণ তিনি নিজের বক্তব্যকে ভুল অভিহিত করে বলেছেন, ওরকম কথা বলা আমার উচিত হয়নি। আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। আমি ওইরকম কথা বলতে চাইনি। কিন্তু যা ড্যামেজ হওয়ার ততক্ষণে হয়ে গিয়েছে। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশে যান, তখন সেখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক ফোরামে ভারত সম্পর্কে বদনাম করেন। অপবাদ দেন। তিনি ভারত বিরোধী একটি প্রচার করেন। সেই বিজেপিরই থিংকট্যাঙ্কের সদস্য রাম মাধব এভাবে বিরোধীদের বক্তব্যগুলিই আমেরিকায় গিয়ে বলায় প্রত্যাশিতভাবেই প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি এবং মোদি সরকার। রাহুল বলেছেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ আর বিজেপির মুখোশ অবশেষে খুলে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি যে কতটা দুর্বল প্রধানমন্ত্রী, সেটা রাম মাধবের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।