সংবাদদাতা, মালদহ: প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটে গিয়েছে মালদহ জেলায়। এক সময় কংগ্রেসের দাপট ছিল জেলায়। কিন্তু এখন আর সেই প্রতিপত্তি নেই। সিপিএম সহ বামদলগুলির আরও খারাপ।
মালদহের রাজনীতির কর্তৃত্ব এখন কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। রাজনৈতিক শক্তির নিরিখে জেলায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে জেলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই। কংগ্রেস কিছুটা প্রাসঙ্গিক হতে পারলেও মালদহে সিপিএমের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে, বামেদের দাবি, তারা আশাতীত ফল করবে জেলায়।
এক সময় মালদহের বিধানসভা আসনগুলিতে জোর টক্কর হত সিপিএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে। ২০১৮ থেকে ক্রমশ মালদহের রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হতে শুরু করে তৃণমূল। দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে মালদহের রাজনৈতিক বিন্যাস। ২০১৯ সালে জেলার রাজনীতিতে দ্বিতীয় শক্তি হিসাবে উঠে আসে বিজেপি। ২০২১ থেকেই কার্যত জেলার রাজনীতির অক্ষ বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। কংগ্রেস ন্যূনতম প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সমর্থ হলেও জেলার নির্বাচনি রাজনীতিতে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বামেরা।
মালদহের রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবার বিধানসভা নির্বাচনেও ভোটের ব্যাপক মেরুকরণ হয়েছে। জেলার অধিকাংশ ভোটই ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে। ফলে, মালদহের ১২টি আসনের সিংহভাগই ভাগ হয়ে যেতে পারে ঘাসফুল এবং পদ্মফুল শিবিরের মধ্যে। হাতেগোনা দু’একটি আসনে কংগ্রেস ভোটারদের একটা অংশের সমর্থন পেলেও সিপিএম, অন্যান্য বামদল এবং তাদের জোটসঙ্গী আইএসএফ খাতা খোলা তো দূরঅস্ত, বরং শোচনীয় ফল করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা এবং বাম শিবিরের কর্মী হারাধন রজক বলেন, ভোটের ব্যাপক মেরুকরণ হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারছি অধিকাংশ ভোটারই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে একটি দলকে বেছে নিয়েছেন। কংগ্রেস কিছু ভোট পেলেও বামেদের ঝুলি শূন্য থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, মালদহের মানুষ জানেন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারে শুধু তৃণমূল। যাঁরা বিজেপিকে রুখতে চান, তাঁরা আমাদেরই ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপির মালদহ দক্ষিণ জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দম শুধুমাত্র বিজেপিরই আছে, এটা মালদহের মানুষ জানেন। যাঁরা তোষণের রাজনীতিকে উপড়ে ফেলতে চান, তাঁরা ছদ্মবেশীদের পাশে দাঁড়াননি। মালদহে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। কংগ্রেসের ঈশা খান চৌধুরীর মন্তব্য, যাঁরা তৃণমূলের দুর্নীতি এবং বিজেপির স্বৈরাচারের বিরোধী, তাঁরা কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন। কংগ্রেস এবার জেলায় খাতা খুলবে। অন্যদিকে, জেলা বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান কৌশিক মিশ্রর দাবি, জেলায় বামফ্রন্ট গত বিধানসভার চেয়ে ভালো ফল করবে। তৃণমূল এবং বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতি করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।