• বিধানসভার ফল দেখে পুরসভায় সিআইসি গঠন, লিডের হিসাব কষছেন কাউন্সিলাররা
    বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরের কোন ওয়ার্ড থেকে দলের কত লিড? তার উপরেই নির্ভর করতে চলেছে জলপাইগুড়ি পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলারদের ভাগ্য। কারণ, ভোটের আগেই দলীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনে নিজের ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে না পারলে চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল (সিআইসি) হওয়ার দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়তে হবে সেই কাউন্সিলারকে। 

    শুধু তাই নয়, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় কাউন্সিলারের পারফরম্যান্সের উপরেই নির্ভর করবে তিনি আগামী পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পাবেন কি না। সেইমতো নিজের ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে মরিয়া হয়ে বিধানসভা ভোটের ময়দানে ঝাঁপান তৃণমূল কাউন্সিলাররা। একটাই লক্ষ্য ছিল, গত লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস যে ১৭ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল, যেভাবেই হোক সেই ঘাটতি মেটানো। ফলে দিনরাত এক করে তৃণমূল কাউন্সিলাররা যেমন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেছেন, ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন, ঘরোয়া বৈঠক করেছেন, তেমনই ভোটের দিন সকাল থেকে বুথ আগলে ভোট করানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। 

    কিন্তু তারপরও কি জলপাইগুড়ি শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের লিড থাকছে? সেই অঙ্ক কষা চলছে জোড়াফুল শিবিরে। ইতিমধ্যেই দলীয় কাউন্সিলাররা তাঁদের ওয়ার্ডে কেমন ভোট হয়েছে, সেব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিয়েছেন। কোন ওয়ার্ডে দল কত ভোটে এগিয়ে কিংবা পিছিয়ে থাকতে পারে, তারও আভাস দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলারের পাশাপাশি দলের ওয়ার্ডের কর্মীরা। আর সমস্ত হিসাব মিলিয়ে জলপাইগুড়ি আসনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের দাবি, শহরে আমরা খুব ভালো জায়গায় রয়েছি।

    যদিও জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ভোট নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলারদের স্নায়ুচাপ বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরের রিপোর্ট। বিজেপির জলপাইগুড়ি এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোজ শাহের দাবি, আমার মণ্ডলে পুরসভার ১-৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৮-২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৫টি বুথ রয়েছে। সবক’টিতেই আমাদের লিড থাকবে। ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আমরা অন্তত পাঁচশো ভোটে এগিয়ে থাকব। জলপাইগুড়ি শহরে মোট ১০৩টি বুথ। বাকিগুলিতেও বিজেপির পক্ষে ভালো ভোট পড়েছে।

    জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর ওয়ার্ডে বেশকিছু অবাঙালি ভোট রয়েছে। সেই ভোট একচেটিয়া বিজেপির দিকেই গিয়েছে বলে দাবি পদ্ম পার্টির। যদিও সন্দীপের দাবি, পুরসভা ভোটের মতো করেই এবার বাড়ি বাড়ি ঘুরেছি। বারবার অবাঙালিদের কাছে গিয়েছি। তাঁরা আমাদের পক্ষে থাকার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। 

    পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মহিলারা যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমাদের লিড থাকবে বলে আশাবাদী। তাছাড়া গত চারমাসে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় ৪২ কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ হয়েছে। আম্রুত প্রকল্পে আমরা বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয়জল পৌঁছে দিয়েছি। ভোটে এর ডিভিডেন্ট পাব।

    জলপাইগুড়িতে ভোটপর্ব মিটতেই কলকাতায় প্রচারে গিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। ভাইস চেয়ারম্যানও শনিবার পুরসভায় যাননি। পুর আধিকারিকদের কেউ নির্বাচনের ডিউটিতে ব্যস্ত, কেউ আবার দক্ষিণবঙ্গে নিজের ভোট দিতে গিয়েছেন। ফলে পুরসভায় এদিন সেভাবে কাজকর্ম হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)