• নির্বাচনের জেরে পাহাড়-ডুয়ার্সে বুকিং কম, পর্যটনে বড়োসড়ো ধাক্কার আশঙ্কা
    বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পাহাড়ে পর্যটকের ঢল নামে। গরমের হাত থেকে কয়েকটা দিনের জন্য রেহাই পেতে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে ওঠে দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা সিকিম। কিন্তু এবারের ছবিটা একেবারে অন্যরকম। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেও কার্যত পর্যটকশূন্য পাহাড়। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পাহাড়ের বেশিরভাগ হোটেলে কোনো বুকিং নেই। যেসময় পাহাড়ের হোটেল কিংবা হোম স্টেতে ঠাঁই পাওয়া রীতিমতো দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে এখন বুকিংয়ের অপেক্ষায় শৈলশহরের হোটেল মালিকরা। 

    ভোটের কারণে পর্যটনে এই মন্দা বলে জানাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। একই ছবি ডুয়ার্সেও। গোরুমারা হোক কিংবা জলদাপাড়ায় বেশিরভাগ হোটেল ও রিসর্ট ফাঁকা। লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, ভোট আসে আর ধাক্কা খায় পর্যটন। তাঁর দাবি, এসআইআরের কারণে মার্চে গোরুমারায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম ছিল। আর এপ্রিলে পর্যটন মার খেল ভোটের কারণে। মে মাসের ১৫ তারিখের আগে বুকিং নেই বললেই চলে।

    রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, মূলত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত পাহাড়ে সামার ট্যুরিজমের ভরা মরশুম। এসময় স্কুলে গরমের ছুটি থাকে। ফলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচুর পর্যটক গরম থেকে বাঁচতে পাহাড়ে বেড়াতে আসেন। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে টিকিট পাওয়া রীতিমতো মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। হোটেলগুলি একশো শতাংশ বুকড থাকে। সেখানে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ পর্যটক রয়েছেন পাহাড়ে। ভোটের কারণেই এবার পাহাড়ে সামার ট্যুরিজম মার খেল। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে কত পর্যটক আসেন, সেটাই এখন দেখার।

    দার্জিলিংয়ের ম্যাল এখন কার্যত পর্যটকশূন্য বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের হোটেল ব্যবসায়ী জীবন নন্দী। শনিবার তিনি বলেন, অন্যবছর এপ্রিলের শেষে একটাও রুম ফাঁকা থাকে না। বাধ্য হয়ে পর্যটকদের ফিরিয়ে দিতে হয়। সেখানে এবার বুকিং নেই বললেই চলে। দার্জিলিংয়ের সব হোটেলেই একই ছবি।

    পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যে সামান্য বুকিং রয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগই মুম্বই, বেঙ্গালুরু সহ ভিনরাজ্যের। কলকাতার পর্যটকদের বুকিং তলানিতে। প্রথম দফায় ভোটের আগে পাহাড় ও ডুয়ার্সে কিছু পর্যটক ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট না-মেটা পর্যন্ত কোনো হোটেলে বাইরের কেউ থাকতে পারবে না বলে নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন। এতে পর্যটকরা হোটেলে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। বেড়াতে এসে ঝামেলায় জড়াতে না চাওয়ায় অনেকে মাঝপথে ট্যুর বাতিল করে ফিরে যান। তাছাড়া ভোটের কাজে বেশিরভাগ গাড়ি তুলে নেওয়ায় বেড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হবে ভেবে অনেকে বুকিং করেও শেষমুহূর্তে তা বাতিল করেন। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে এবার গরমের মরশুমে পাহাড়ে পর্যটন বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে বলে আশঙ্কা ট্যুর অপারেটরদের।
  • Link to this news (বর্তমান)