• বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্রংরুমের সামনে কড়া পাহারা বিজেপির, দেখা নেই তৃণমূল কর্মীদের
    বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএম নিয়ে সতর্ক করলেও বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের হুঁশ ফেরেনি। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রংরুমের বাইরে বিজেপি কর্মীরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও তৃণমূলকে ময়দানে দেখা যায়নি। এতে জেলা তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এনিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে। বিষয়টি জানার পর নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ চক্রবর্তী। সাংসদ বলেন, ভোটের পর জয় নিয়ে কর্মীরা আত্মতুষ্টিতে ভুগতে শুরু করেছে। অতি আত্মবিশ্বাসী হলে চলবে না। স্ট্রংরুমে যাতে সর্বক্ষণ কর্মীরা থাকেন, তা দেখার নির্দেশ দিয়েছি। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অনুমতিপত্র জোগা‌ড় করতে বলা হয়েছে। তাঁরা স্ট্রংরুমের বাইরে নজর রাখবেন। আমি নিজে এদিন খাতড়া আদিবাসী মহাবিদ্যালয়ের স্ট্রংরুম চত্বর ঘুরে দেখেছি। 

    বিজেপি’র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পরাজয়ের আঁচ পেয়ে তৃণমূল কর্মীরা রণে ভঙ্গ দিয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    বাঁকুড়া সদর মহকুমার পাঁচটি বিধানসভার ইভিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রংরুমে রাখা হয়েছে। সেখানেই ভোটগণনা হবে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বারে রাজ্য পুলিশের কর্মীরা রয়েছেন। সেখান থেকে এগিয়ে একটি চেকপোস্টে রাজ্য পুলিশের দু’জন সশস্ত্র কর্মী পাহারা দিচ্ছেন। স্ট্রং রুমের মেন গেটের সামনে আরও দু’জন পুলিশকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্ট্রংরুমের ভিতরে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রংরুমের ভিতরে ও বাইরের চত্বর সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ওই সমস্ত ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ বাইরে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের তাঁবুতে থাকা স্ক্রিনে সরাসরি দেখা যাচ্ছে।

    এদিন দুপুর ১টা নাগাদ সেখানে গিয়ে দেখা গেল, বাঁকুড়া ও শালতোড়া বিধানসভার তিন বিজেপি কর্মী বিকাশ সিংহ, আনন্দ চৌধুরী ও প্রশান্ত পরামানিক স্ক্রিনে কড়া নজর রেখেছেন। তাঁরা ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি সেখানে ছিল না। তৃণমূলের কোনো কর্মী উপস্থিত না থাকায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশান্ত বলেন, শালতোড়ায় ভোটের দিন ইভিএম নিয়ে গণ্ডগোল হয়। তাই আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। আমাদের বিধানসভা থেকে দু’জন করে কর্মী ২৪ঘণ্টার জন্য স্ট্রংরুমে থাকছি। এদিন সকালে এসেছি। রবিবার সকালে বাড়ি ফিরব। যাতায়াত ও খাবারের খরচ দলের তরফে দেওয়া হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)