প্রথমে বলা হয়েছিল ছাড়তে আধঘণ্টা দেরি হবে। তারপরে আরও আধঘণ্টা। এই ভাবে যে ট্রেন সন্ধ্যায় সোয়া ছটায় ছাড়ার কথা ছিল, রাত সাড়ে নটাতেও তা ছাড়েনি। রায়গঞ্জ স্টেশনে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকে রাধিকাপুর-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। আর এই দীর্ঘ বিলম্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তীব্র যাত্রী বিক্ষোভ। এক পর্যায়ে, রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্টেশন মাস্টার এবং জিআরপি আধিকারিকদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিকেল সোয়া ছটায় ট্রেনটির রায়গঞ্জ স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরেও তার চাকা ঘোরেনি। ট্রেনের ক্ষুব্ধ যাত্রী সঞ্জীত ওরাওঁ এবং সাদ্দাম হোসেন উষ্মা প্রকাশ করে জানান, আড়াই-তিন ঘণ্টা ধরে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল এবং বারংবার আধ ঘণ্টা করে করে ট্রেন ছাড়ার সময় পিছিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘রাত দুটো-তিনটের সময়s শিলিগুড়ি পৌঁছলে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?’
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত যান্ত্রিক বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণেই এই বিপত্তি। রায়গঞ্জের স্টেশন ম্যানেজার রাজু কুমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যে যাত্রীরা টিকিটের দাম ফেরত চেয়েছেন, তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা শিলিগুড়ি যেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাঁদের কলকাতা-রাধিকাপুর এক্সপ্রেসে তুলে বারসই স্টেশনে নামার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য তাঁদের জন্য আরও দু’টি ট্রেনের বন্দোবস্ত রয়েছে।’
তবে মাঝপথে এই হয়রানির জন্য রেলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন যাত্রীরা। স্টেশন মাস্টারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে অনেককে বলতে শোনা য়ায়, ‘আপনাদের কাছে সাধারণ মানুষের মসেয়র কোনও দাম নেই?’