• রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার সতর্কতা মৌসম ভবনের
    এই সময় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: ‘রাজা বলে বৃষ্টি নামা, নইলে কিছু মিলছে না’ — সুকুমার রায়ের ‘নেড়া বেলতলা যায় ক’বার’ ছড়ায় রোদে রাঙা ইটের পাঁজায় গরম জামা গায়ে বসে থাকা রাজা যা চেয়েছিলেন, আপাতত আকুল মনে তারই প্রার্থনা করে চলেছে প্রায় গোটা দেশ — বৃষ্টি চাই। মধ্য ও উত্তর ভারতে তাপমাত্রা ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছেছে। চড়া তাপমাত্রার সঙ্গে অত্যন্ত বেশি মাত্রার আপেক্ষিক আর্দ্রতার প্রভাবে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বস্তিকর অবস্থায় পৌঁছেছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গেও। কালবৈশাখী ছাড়া এই অবস্থা পরিবর্তনের কোনও আশা দেখছেন না আবহবিদরা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, সামনের কয়েকদিনে রাজধানী দিল্লি–সহ উত্তর ভারতের বিরাট এলাকায় সর্বোচ্ত তাপমাত্রার অনেক পুরোনো রেকর্ডই ভাঙা পড়ার আশঙ্কা খুব বেশি।

    বিভিন্ন রিজিওনাল মিটিওরোলজিক্যাল সেন্টার (আরএমসি) থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে বলা যায়, রবিবার দেশের উষ্ণতম স্থান ছিল প্রয়াগরাজ। এ দিন এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জায়গা ছাড়াও বেনারস, মুঘলসরাই, বক্সার, মির্জাপুর ও তালচেরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ৪৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। রাজধানী দিল্লির রিজ এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে। সফদারজঙ্গ–এর (৪২.৮) তাপমাত্রা ২০২২–এর ২৮ এপ্রিলের (৪৩.৫) পর এই প্রথম এত বেশি জায়গায় পৌঁছল। এ ছাড়া লোদি রোড (৪২.৬) এবং আয়ানগরেরও (৪৩.২) তাপমাত্রাও খুব বেশি ছিল।

    মৌসম ভবন জানিয়েছে, রবিবার থেকেই উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আবহাওয়ার বড় রকমের পরিবর্তন হতে চলেছে। আবহববিদদের আশঙ্কা, তাপ্রবাহের প্রভাবে দেশের অনেকটা অংশের এপ্রিলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক উচ্চতায় উঠতে চলেছে। তাঁদের সতর্কবার্তা, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম তীব্র এই তাপপ্রবাহে এপ্রিলেই কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ডভাঙা গরম পড়তে চলেছে। কোনও কোনও এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২০২৪–এর গ্রীষ্মে নাগপুর এবং দিল্লির কয়েকটি জায়গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মে–র শেষ দিকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এ বার এপ্রিসের শেষেই পরিস্থিতি প্রায় একই রকম হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের কিছু অংশের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলার পশ্চিমের জেলাগুলো নিয়েও চিন্তার কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। শনিবার পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রিতে উঠেছিল। এ ছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের তাপমাত্রাও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছিল। এত চড়া তাপমাত্রা শুধু গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে। রাজধানী দিল্লি ছাড়াও হরিয়ানা, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, গুজরাট ও ওডিশায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। সোমবার থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ভারতের আবহাওয়ায় কিছু পরিবর্তন আসার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ভারতের জেলাগুলোর তাপমাত্রা সামান্য হলেও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অন্য দিকে ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে বাংলার আবহাওয়ারও সাময়িক ভাবে কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ঝাড়খণ্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এ ছাড়া পূর্ব ভারতের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২.৬ কিমি উচ্চতায় একটি জেট স্ট্রিম (তীব্র বাতাসের প্রবাহ) বজায় রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ১৪৮ কিমি গতিতে বয়ে যাওয়া এই অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জন্য এবং বঙ্গোপসাগর থেকে ঢুকে আসা জলীয় বাষ্পর কারণে বাংলার দক্ষিণ ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • Link to this news (এই সময়)