এই সময়: একটি কালো গাড়িতে করে ৩০০ কোটি টাকা ভবানীপুরে ঢোকানো হয়েছে বলে রবিবার সেখানে নির্বাচনী সভায় অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, পুলিশ কোনও নাকা চেকিং না–করার ফলেই ওই টাকা ঢুকেছে। ওই টাকা বস্তিতে ছড়ানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই একটি জায়গায় পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবির ভোটে ভরাডুবি ঠেকাতেই এই কাজ করছে বলে তৃণমূল নেত্রীর পর্যবেক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরের কোনও গেস্ট হাউস, ধর্মশালা, হোটেলে কোনও বহিরাগত যাতে কাল, সোমবার ২৭ এপ্রিলের পরে না–থাকে, সে দিকে নজর রাখার জন্য মমতা তাঁর দলের নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার মমতার পদযাত্রা ও জনসভা মিলিয়ে মোট পাঁচটি কর্মসূচি ছিল। যদুবাবুর বাজার ও খিদিরপুরের সভায় মমতা গাড়িতে করে টাকা ঢোকানোর অভিযোগ করেছেন। যদুবাবুর বাজারের কাছে গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোড এবং খিদিরপুরের পদ্মপুকুর রোডের ক্রসিংয়ের কাছে জনসভায় মমতা বলেন, ‘কালো স্করপিও গাড়িতে ৩০০ কোটি নিয়ে ঢুকেছে। ওডিশা থেকে ৩০০ কোটি এসেছে। এই টাকা নিয়ে ওরা বস্তিতে যাবে। ৫ হাজার টাকা করে দেবে। এক জায়গায় কাল ৫ হাজার টাকা দিয়েছে। কিন্তু ওরা (টাকা যাদের দেওয়া হয়েছে) আমাকে বলেছে, টাকা নিয়েছি কিন্তু ভোট দেবো না। আপনারা (তৃণমূলের নেতৃত্ব) লক্ষ্য রাখুন, এখানে অনেক খালি বাড়ি, ধর্মশালা, গেস্ট হাউস, ছোট হোটেল রয়েছে। প্রচার শেষ হওয়ার পরে যেন কোনও বহিরাগত না–থাকতে পারে।’
কালো গাড়িতে করে ৩০০ কোটি টাকা ঢোকার অভিযোগ তুলে খিদিরপুরের সভায় মমতা বলেন, ‘গদ্দারের তরফে টাকা পাঠাবে বস্তিতে। আপনাদের কমিউনিটির কাউকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিতে চাইবে। টাকা দিয়ে নির্দল দাঁড় করিয়েছে। এদের একটি ভোটও দেবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট ভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না–করলেও তিনি গেরুয়া শিবিরকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও মমতার এই অভিযোগ উড়িয়ে বঙ্গ–বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনিবার্য পরাজয়ের হতাশা থেকে উনি এ সব কথা বলছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এ সব কথাকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। ওঁদের কাছে যদি তথ্যপ্রমাণ থাকে, তা হলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করুন।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনও প্রতিক্রিয়া এ দিন পাওয়া যায়নি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটেও গেরুয়া শিবিরের নিশ্চিত পরাজয় ঠেকাতে এই সব কাজ করা হচ্ছে। গেরুয়া িশবিরের সংগঠন না–থাকায় ভবানীপুরের বিভিন্ন জায়গায় বহিরাগতদের এনে রাখা হচ্ছে। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত, কলকাতা পুরসভার ৭০ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ভিন রাজ্যের বাস দেখা গিয়েছে বলেও তৃণমূলের দাবি। যদুবাবুর বাজারের সভায় মমতা বলেন, ‘ওরা আসলে ভয় পেয়ে গিয়েছে। পাগলা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হয়, ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে ভয়াতঙ্ক রোগে ভুগছে ওরা। পুলিশকে দিয়ে নাকা চেকিং করাতাম, তা এখন হয় না। কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাই ঢুকে যাচ্ছে। এ সব করার জন্য সব (অফিসার) চেঞ্জ করে দিয়েছে। আমাদের হাতে থাকলে ঠিক ধরে ফেলতাম।’ নির্বাচন কমিশন শনিবার কালীঘাট থানার ওসি–কে বদল করেছে। কমিশন তার আগে ভবানীপুরে ওসিকে বদল করেছিল। কমিশনের এ সব পদক্ষেপের দিকেই মমতা ইঙ্গিত করেছেন বলে তৃণমূল নেতারা মনে করছেন।
প্রথম দফার ভোটের ট্রেন্ড দেখেই গেরুয়া শিবির মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল সেঞ্চুরি অর্থাৎ ১০০ আসন পার করে দিয়েছে বলে রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক নির্বাচনী সভায় ফের বলেছেন। এ দিন ক্যামাক স্ট্রিটের একটি সভায় মমতা বলেন, ‘প্রথম দফায় আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। বিজেপি ডর গয়া। তাই ওসি, ডিএম চেঞ্জ করে গুন্ডাগিরি করছে।’ ভবানীপুরে সব গেস্ট হাউস, হোটেলের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি কোনও এলাকায় অচেনা কাউকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তিতে চিহ্নিত করার নির্দেশও দলের নেতা–কর্মীদের দিয়েছেন মমতা। তিনি এ ব্যাপারে বিশেষ করে মহিলাদের সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ দিন মমতার আরও অভিযোগ, কালীঘাট, ভবানীপুর থানায় কাউকে কাউকে ডেকে পাঠিয়ে মুচলেকা লেখানো হচ্ছে। তৃণমূলের কয়েকশো নেতা–কর্মীর গ্রেপ্তারির জন্য নির্বাচন কমিশন তালিকা তৈরি করেছিল। তবে কলকাতা হাইকোর্ট তার উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তার পরেও থানায় তৃণমূলের কোনও কোনও কর্মীকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, ‘কালীঘাট ও ভবানীপুর থানায় কাউকে কাউকে ডেকে মুচলেকা দিতে বলেছে। কিন্তু দিদি মরে যায়নি, দিদি আছে, লড়াই করার ক্ষমতাও আছে। ওরা এ সব করছে, কারণ ওরা (েগরুয়া শিবির) জানে, গোল্লায় যাবে।...ওরা ভাবছে, ভয় দেখিয়ে যদি কিছু সিটে জেতা যায়। ভয় দেখালে আমরা লড়ে নেব।’