নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক CISF জওয়ানকে গ্রেপ্তার (Arrest) করল পুলিশ। রবিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের লালবাজারের এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত জওয়ানের নাম রমাকান্ত বিশ্বশর্মা (Ramakant Biswa Sarma)। আমের লোভ দেখিয়ে CISF ক্যাম্পের মধ্যে তিনি নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে অভিযুক্ত ভোটের ডিউটির (West Bengal Assembly Election 2026) সঙ্গে যুক্ত নন বলেই জানা গিয়েছে। এলাকার কয়লাখনির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেলে স্থানীয় CISF ক্যাম্প সংলগ্ন বাগানে আম কুড়োতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। সেই সময়ে ক্যাম্পেই ছিলেন রমাকান্ত। অভিযোগ, আম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তিনি নাবালিকাকে ঘরে ডাকেন। কিছুই বুঝতে পারেনি কিশোরী। আম পাওয়ার আশায় ঘরে ঢুকতেই রমাকান্ত তাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করে নাবালিকা। তখনই ঘাবড়ে গিয়ে ক্যাম্প থেকে একটি স্কুটি নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনা খুলে বলে নাবালিকা। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শীতলপুরের CISF ক্যাম্প ঘেরাও করেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত রামকান্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এর পরে রাতের দিকে ক্যাম্পের তিন নম্বর গেটের সামনে রাস্তা অবরোধও করেন তাঁরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সাকতোরিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনয় দাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, রমাকান্তকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এর পরেই রমাকান্তের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর অবরোধ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনয় দাস বলেন, ‘নাবালিকার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’