একাধিক বার থমকালেন। মাইকের মাথায় আঙুল দিয়ে টোকা দিলেন। দু’-একবার ঝাঁকিয়েও দেখলেন। কিন্তু কাজ হলো না। বার বার বন্ধ হয়ে গেল মাইক। শেষ পর্যন্ত ঠোঁট উল্টে ‘জয়, জয় শ্রীরাম’ বলে ভাষণ শেষ করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার বারাসতের (Barasat) হেলাবটতলার মোড়ে মাইক বিভ্রাটের (Mic Glitch) জেরে বেজায় বিরক্ত তিনি।
এ দিন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে রোড শো করার কথা ছিল অমিত শাহের। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে বারাসতে পৌঁছন তিনি। তার পরেই বিজেপি প্রার্থী শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে উঠে পড়েন হুডখোলা গাড়িতে। সত্যভারতী স্কুলের সামনে থেকে শুরু হয় র্যালি।
শাহকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকা মুড়ে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোতায়েন ছিল পুলিশও। নির্ঝঞ্ঝাটেই শুরু হয়েছিল রোড শো। রাস্তার দুই ধারে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন শাহ। ধীর লয়ে এগোচ্ছিল গাড়ি। অনেকেই শাহের দিকে ফুল ছুড়ছিলেন।
তাল কাটল শেষের দিকে। হেলাবটতলা মোড়ের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার একটু আগেই মাইক নিয়ে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগাগোড়া তৃণমূলকেই নিশানা করেন তিনি। জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘মা-বোনেদের নিরাপত্তা আছে নাকি নেই? যুবসমাজ চাকরি পাচ্ছেন নাকি পাচ্ছেন না?’ কিন্তু বার বার বন্ধ হয়ে গেল মাইক। কেটে গেল কথা। শেষে বিরক্তিতে মাঝপথেই ভাষণ বন্ধ করে দিলেন শাহ।
দ্বিতীয় দফার আগে মাইক যেন নিজেই ভোটের অন্যতম চরিত্র হয়ে উঠেছে। কখনও প্রচার পণ্ড করতে পাল্টা মাইকিং করছে বিরোধী শিবির। কখনও মাইক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শনিবার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডে জনসভা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সভাস্থলের কিছুটা দূরে বিজেপি মাইকিং শুরু করে বলে অভিযোগ। মমতা আর বক্তব্য শেষ করতে পারেননি। ওই দিন দুপুরে আবার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মিছিল লক্ষ্য করে মাইক বাজানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রচার শেষ করতে পারেনি শুভেন্দুও। এ বার শাহের সভায় বন্ধই হয়ে গেল মাইক।