চক্ষুলজ্জা নেই, বিজেপিকে ঠেস কংগ্রেসের, পাঞ্জাবে বিধায়ক মাত্র ২, রাজ্যসভায় সাংসদ ৬ জন
বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্রমশ একা পড়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। জাতীয় স্বার্থে মোদি বিরোধিতায় ‘ইন্ডিয়া’ জোট এককাট্টা হলেও পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবের প্রেক্ষিতে তৃণমূল এবং আম আদমি পার্টির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। আর তাতেই এআইসিসির একাংশে অস্বস্তি বাড়ছে। বিশেষত, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত করায়। সোমবারই এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন এআইসিসির কোষাধ্যক্ষ তথা মুখপাত্র প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মাকেন। প্রশ্ন শুনে পড়লেন অস্বস্তিতে।
কয়েকদিন আগেই সংসদে মোদি সরকারের আনা সংবিধান সংশোধন বিল আটকানোর সাফল্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই রাহুলই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে প্রবল সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল। যদিও প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহভাগের মত, নির্বাচনে বাংলায় একা লড়ছে কংগ্রেস। তাই রাজ্যের শাসক দলের সমালোচনা তো করতেই হবে। বিজেপিকেও তো আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী।
এদিন এআইসিসির সাংবাদিক সম্মেলনে এ ব্যাপারে অজয় মাকেনকে প্রশ্ন করা হয়। পাঞ্জাবে বিজেপির অপারেশন লোটাসের সমালোচনা করছিলেন তিনি। বলেন, পাঞ্জাব বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক মাত্র দুজন। অথচ রাজ্যসভায় পাঞ্জাবের সাত আপ সাংসদের মধ্যে রাঘব চাড্ডা পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিকে যোগ দিয়েছেন। বিধানসভার বিধায়ক সংখ্যার প্রেক্ষিতে মেলে রাজ্যসভার আসন।
তাই অজয় মাকেনের প্রশ্ন, পাঞ্জাব বিধানসভায় মাত্র দুজন বিধায়ক, অথচ রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ ছয়। বিজেপির কি চক্ষুলজ্জা নেই? এতো মানুষের সঙ্গে বেইমানি। রাজ্যসভাও সোমবার তার সরকারি আসন বিন্যাসে রাঘব চাড্ডাদের বিজেপি সাংসদ বলেই ঘোষণা করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে বিজেপি ও কেজরিওয়ালকে এক হাত নিয়েছেন মাকেন। বলেছেন, কেজরিওয়াল দেশদ্রোহী। তিনি কংগ্রেসের ক্ষতি করতেই বিজেপির প্রক্সি হিসাবে কাজ করছেন।
কিন্তু কয়েকদিন আগেই তো লোকসভায় আম আদমি পার্টির সমর্থন পেয়েছেন মোদি সরকারে সংবিধান সংশোধনী বিল আটকানোয়। তারপরেও দেশদ্রোহী বলছেন? রাহুল গান্ধীও পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করছেন? তাহলে ইন্ডিয়া জোটের কী হবে? প্রশ্ন শুনে অজয় মাকেন বলেন, সব ইস্যুকে তালগোল পাকালে তো হবে না। পশ্চিমবঙ্গে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য নিয়ে কিছু বলব না। তবে এটা বলছি, আম আদমি পার্টির সঙ্গে আমাদের সখ্য সম্পর্ক ভুল। হরিয়ানা, গোয়া, পাঞ্জাব, গুজরাতের মতো যেখানেই বিজেপি তথা এনডিএ’র সঙ্গে কংগ্রেসের সরাসরি ফাইট, সেখানেই আম আদমি পার্টি গিয়ে কংগ্রেসের ভোটে থাবা মেরে বিজেপিকে সাহায্য করেছে। রাজ্যসভায় যাঁদের সাংসদ করেছিল তাদের গড় সম্পত্তি ৮১৮ কোটি টাকা। ওরা আম আদমি, নাকি ধনকুবেরের দল?